৪৫ মণ্ডপ থেকে ‘চাঁদা আদায়’, অভিযুক্ত পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ৪৫টি পূজামণ্ডপ থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দেবেশ চন্দ্র দাস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অষ্টগ্রাম থানায় এ বিষয়ে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্রীকৃষ্ণ দাস। অভিযুক্ত দেবেশ চন্দ্র দাস অষ্টগ্রাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) অষ্টগ্রাম উপজেলার ৪৫টি পূজামণ্ডপে প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ করা হয়। ওই দিন বিকেলে ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত সভাকক্ষে প্রতিটি মণ্ডপ থেকে ১ হাজার টাকা করে আদায় করেন দেবেশ চন্দ্র দাস ও তার সহযোগীরা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী শ্রীকৃষ্ণ দাস ও অষ্টগ্রাম সার্বজনীন যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দেবনাথের দাবি, সরকারি অনুদানের চাল পাওয়ার পর মণ্ডপগুলো থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়েছে। উপস্থিত কয়েকজন এর প্রতিবাদ জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেবেশ চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, “পূজা উদযাপন পরিষদের নিজস্ব কোনো ফান্ড নেই এবং আগের অনুষ্ঠানের কিছু ঋণও রয়েছে। গত সোমবার চাল বিতরণের পর সব ৪৫টি পূজা মন্ডপের প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই সংগঠনের ফান্ডের জন্য এই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি কোনো জোরপূর্বক চাঁদা নয়; প্রতি বছরই সর্বসম্মতিক্রমে মন্ডপগুলো থেকে এভাবে ফান্ডের জন্য অনুদান নেওয়া হয়ে থাকে।”
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও সাথী দাস বলেন, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্রীকৃষ্ণ দাস একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত দেবেশ চন্দ্র দাসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















