উত্তরায় পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ তৃতীয় দিনে, সড়কে যানজট

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধে বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ছবি: সংগৃহীত
শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধে বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ছবি: সংগৃহীত

বকেয়া বেতন পরিশোধ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা। এতে বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উত্তরা পশ্চিম জোনের সহকারী কমিশনার মাবিয়ান মিঞা জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে উত্তরার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় শ্রমিকরা সড়কে নামলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে তারা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল আবার শুরু হয়।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় আশপাশের এলাকাতেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী যাত্রী ও পথচারীরা। দীর্ঘ সময় বাসে অপেক্ষা করে অনেক যাত্রীকে হেঁটেই গন্তব্যের দিকে রওনা হতে দেখা যায়।

প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধের পর দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধের পর দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান। ছবি: সংগৃহীত

মাবিয়ান মিঞা বলেন, “আমরা শ্রমিকদেরকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তারপরেও দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বন্ধ থাকায় গাড়ির তীব্র জট তৈরি হয়েছে। শ্রমিকরা সরে গেলে সড়কের দুপাশেই যান চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ জটের কারণে গতি মন্থর, সেটি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।”

যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি। এদিকে পুলিশ বলছে, টানা তিন দিনের এই আন্দোলনে মহাসড়কটিতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শ্রমিকদের দাবি, বকেয়া বেতন পরিশোধের পাশাপাশি সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে। তাদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দাবি আদায়ে একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও সমাধান না পাওয়ায় তারা সড়কে নেমেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আজকের মতো তারা সড়ক থেকে সরে গেছে, এখন রাস্তা ক্লিয়ার আছে। কিন্তু টানা সড়ক অবরোধের ফলে প্রতিদিন জনসাধারণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement