কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (৫ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতি দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে যাওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রবেশ করেন লাখো ছাত্রজনতা।
শিক্ষার্থী ও জনতা শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগ, গুলি করে শিক্ষার্থী ও জনতাকে হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করছেন। একই সঙ্গে দেশে সুশাসন ফিরিয়ে আনার দাবিও জানাচ্ছেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি।
রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকায় আনন্দ উল্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্য করে থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা সেনাবাহিনী প্রধানের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সংবাদ শুনে উল্লাসে ফেটে পড়েন। এসময় তারা একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। একইসঙ্
সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে সড়কে নেমে এসেছেন হাজারো জনতা। সোমবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বাড্ডা, উত্তরা মিরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের খবর মেলে।
সবাইকে শাহবাগ আসার আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ২টার পর তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
জাতির উদ্দেশে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ভাষণ এক ঘণ্টা পেছানো হয়েছে। দুপুর ২টার পরিবর্তে বিকেল ৩টায় ভাষণ দেবেন সেনাপ্রধান। সোমবার (৫ আগস্ট) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আজ দুপুর ২টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান। সোমবার (৫ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর-আইএসপিআর।
সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলন সফল করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ আজ সোমবার (৫ আগস্ট)। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে পুলিশ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এক দিন এগিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। ঢাকামুখী লং মার্চটি আগামীকাল মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও তা পরিবর্তন করে আজ সোমবারই করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।
বাম নেতারা বলেন, দেশকে ক্রমাগত গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। ফলে এখনই শেখ হাসিনা সরকারকে পদত্যাগ করে অন্তবর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জোর দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংবিধান ও আইনের আলোকে দায়িত্ব পালন করবে বলে রোববার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
অসহযোগ আন্দোলনসহ চলমান আন্দোলনে ছাত্র জনতাকে হত্যাকারীদের বিচার অবশ্যই বাংলাদেশের মাটিতে হবে।
রোববার (৪ আগস্ট) বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের একটাই উদ্দেশ্য ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এটা করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করলে তারা ক্ষমতা নেবেন, কীভাবে নেবেন এ ধরনের বিষয় চলে এসেছে। এই দাবির ফলে ছাত্রদের দাবির যৌক্তিকতা নেই। কারণ তারা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, কিন্তু তারা এ কথা বলছে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে আমাদের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্ট থেকে পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট করা হলো। অর্থাৎ আগামীকালই সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’