আবুধাবিতে দুর্দান্ত শুরু, তবু অস্বস্তি নিয়ে দিন শেষ বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক
দিনের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও শেষটা ছিল অস্বস্তির। ছবি: বিসিবি
দিনের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও শেষটা ছিল অস্বস্তির। ছবি: বিসিবি

আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দুর্দান্ত শুরু করেও দিনটা একরকম অস্বস্তি নিয়েই শেষ করতে হলো বাংলাদেশের। উদ্বোধনী জুটিতে ১২৪ রান তোলার পর একপর্যায়ে ২ উইকেটে ২২১ রান ছিল দলের স্কোর। সেখান থেকে মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের খেলা শেষে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান তুলেছে নাজমুল হোসেনের দল।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিনের প্রথম ভাগে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাদমান ইসলাম। আফগান বোলাররা শুরুতে তেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে না পারায় সহজেই রান তুলছিলেন তাঁরা। সাদমান কিছুটা দেখে খেললেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে আফগান বোলারদের চাপে রাখেন তানজিদ। মাত্র ৪১ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া এই ওপেনার শেষ পর্যন্ত ৭১ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৩ রান করেন।

তানজিদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, টেস্টে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও হয়তো নতুন করে লিখবেন তিনি। সেই রেকর্ড গড়তে তার প্রয়োজন ছিল আরও ১১ রান। কিন্তু ইসমত আলীর বলে অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলীখিলের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তাতেই থামে তাঁর ঝোড়ো ইনিংস, ভাঙে সাদমানের সঙ্গে ১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি।

তানজিদ ফিরলেও প্রথম সেশনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে স্বস্তি বজায় ছিল। ফিফটি তুলে নেওয়া সাদমানও ভালো খেলছিলেন। মোহাম্মদ সেলিমের বলে আউট হওয়ার আগে ৬৭ রান করেন তিনি। তবে সাদমানের বিদায়ের পর থেকেই বাংলাদেশের ইনিংসে ছন্দপতন শুরু হয়।

দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে মুমিনুল হককে ফিরিয়ে সেই ধসের সূচনা করেন ইয়ামিন আহমেদজাই। তাঁর পরের ওভারেই কোনো রান না করে বোল্ড হন মুশফিকুর রহিম। ইয়ামিনের বলটি ছিল ইয়র্কার, তবে তাতে গতি খুব বেশি ছিল না। অভিজ্ঞ মুশফিকের এমন বিদায় বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।

এরপর কায়েস আহমেদের লেগ স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। মুহূর্তের মধ্যে ২ উইকেটে ২২১ রান থেকে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২২৫। মাত্র ৫ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে তখন বিপর্যয়ে পড়ে দল।

এ পরিস্থিতিতে ইনিংস সামাল দেওয়ার দায়িত্ব নেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের ব্যাটে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পায় বাংলাদেশ। তাঁদের জুটিতে যোগ হয় ৬২ রান। কিন্তু ইসমত আলীর বলে বল টেনে এনে নিজের স্টাম্পে লাগিয়ে বোল্ড হন মিরাজ। তাঁর বিদায়ে ভাঙে এই প্রতিরোধ।

এরপর কিছুটা ধীর হয়ে যায় লিটনের ব্যাটিং। ফিফটির আগে ৪ রান তুলতে তাঁকে খেলতে হয় ১৩ বল। তবে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর বড় শট খেলতে গিয়ে আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। মোহাম্মদ সেলিমের বলে হুক করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের হাতে ক্যাচ দেন লিটন। ৭৭ বলে ৫৩ রান করে ফেরেন তিনি।

টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর এ দিন প্রথম রান করেই ব্যাট উঁচিয়ে উদ্‌যাপন করেছিলেন লিটন। ফিফটির পরও একইভাবে ব্যাট তুলে ধরেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত অর্ধশতকের পর ইনিংসটিকে আর বড় করতে পারেননি এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

লিটনের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ তিন শ ছাড়ালেও শেষ দিকে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর হাসান মাহমুদও ফিরে গেলে আরও চাপে পড়ে দল। প্রথম দিন শেষে নাঈম হাসান ১১ রান এবং তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

দিনের শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে যে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, শেষ ভাগের ধস তাতে অস্বস্তি আর অনিশ্চয়তা যোগ করেছে। দ্বিতীয় দিনে নাঈম ও তাইজুল দলকে কতটা এগিয়ে নিতে পারেন, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement