তানজিদের পর সাদমানও আউট, সেঞ্চুরি হাতছাড়া দুই ওপেনারের

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে দারুণ শুরুর পর সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারলেন না বাংলাদেশের দুই ওপেনার। তানজিদ হাসানের পর সাজঘরে ফিরেছেন সাদমান ইসলামও। মোহাম্মদ সেলিম সাফির বলে আউট হওয়ার আগে সাদমানের ব্যাট থেকে এসেছে ৬৭ রান। এর আগে আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন ৮৩ রানে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, প্রথম ইনিংসে ৩৯ দশমিক ৪ ওভারে ২ উইকেটে ১৯৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার ম্যাচের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকেন বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটার। তানজিদ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে আফগান বোলিং আক্রমণকে চাপে রাখেন, আর অন্য প্রান্তে সাবধানী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন সাদমান। দুই ওপেনারের জুটিতে বড় সংগ্রহের মজবুত ভিত পায় দল।
মাত্র ১০ দশমিক ২ ওভারেই বিনা উইকেটে ৫৬ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ। শুরুতে ২৪ বলে ২১ রান করার পর আরও দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন তানজিদ। মাত্র ৪১ বলে পূর্ণ করেন নিজের ফিফটি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
অন্যদিকে, সাদমান শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও উইকেটে সেট হওয়ার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। অবশ্য ইনিংসের সপ্তম ওভারেই জীবন পেয়েছিলেন তিনি—ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে কাভারে ক্যাচ ফেলেন আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি। মাত্র ৫ রানে জীবন পেয়ে সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন সাদমান।
দুই ওপেনারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৮ ওভারেই ১০০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশ। গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের পর আবারও উদ্বোধনী জুটিতে শতরানের দেখা পেল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচেও ওপেনিংয়ে ছিলেন সাদমান, এবার তাঁর সঙ্গী ছিলেন তানজিদ।
তবে তানজিদের সেঞ্চুরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান ইসমত আলম। ৮৩ রান করা তানজিদকে ফেরান তিনি। তানজিদের উইকেটের সামনে এসে খেলার প্রবণতা মাথায় রেখে উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিলকে স্টাম্পের একদম কাছে নিয়ে আসে আফগানিস্তান। ইসমতের ষষ্ঠ স্টাম্পের লাইনে করা শর্ট বলে ব্যাটের কানা লাগিয়ে কিপারের গ্লাভসে ক্যাচ দেন তানজিদ। ফলে সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি তাঁর।
তানজিদের বিদায়ের পর মুমিনুল হককে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন সাদমান। প্রথম সেশন শেষে ২৬ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১৩৪ রান। প্রথম সেশন বিরতির পর সাদমান তুলে নেন ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট ফিফটি। তবে ফিফটিকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি তিনি। ৬৭ রান করে সেলিম সাফির শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই ওপেনার।
সাদমানের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩৮ ওভারে ২ উইকেটে ১৮৪ রান। দুই ওপেনারের গড়ে দেওয়া উড়ন্ত সূচনার পর এখন বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাওয়ার মূল দায়িত্ব বাকি মিডল অর্ডার ব্যাটারদের ওপর।














-3a49ad-256x144.webp)



