২৯ রানে শেষ ৬ উইকেট, আফগানদের ২৪০-এ থামিয়ে ১০৬ রানের লিড

একমাত্র টেস্ট ম্যাচে হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেনের বোলিংয়ে দিশেহারা আফগানিস্তান। আগের দিন ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলে শক্ত অবস্থানে থাকা দলটি তৃতীয় দিনের সকালে মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই হারিয়েছে বাকি ৬ উইকেট। তাতে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে গুটিয়ে গেছে আফগানিস্তান। ১০৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিনের শুরুতে নতুন বল হাতে নিয়ে আক্রমণে আসেন হাসান ও ইবাদত। দ্বিতীয় দিনের শেষ ভাগে ১৯৪ বলে ৭২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিল। কিন্তু তৃতীয় দিনের শুরুতেই সেই জুটি ভেঙে দেন ইবাদত। এরপর হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দ্রুত গুটিয়ে যায় আফগানদের ইনিংস।
দিনের প্রথম ওভারেই ইকরামকে বোল্ড করেন ইবাদত। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়া বল ভেতরে ঢুকে ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে। আগের দিন ২৬ রানে অপরাজিত থাকা ইকরাম এ দিন আর রান যোগ করতে পারেননি। এটি ছিল ইবাদতের তৃতীয় উইকেট।
এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। ইনিংসের ৮৩তম ওভারে টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। সব মিলিয়ে টেস্ট ইতিহাসে এটি ৫০তম হ্যাটট্রিক, চলতি বছরে প্রথম।
হাসানের হ্যাটট্রিকের শুরু ইসমত আলমকে বোল্ড করে। ৮২.৩ ওভারে ব্যাক অব আ লেংথের বল নিচু হয়ে ভেতরে ঢুকলে তা সামলাতে পারেননি ইসমত। পরের বলে কায়েস আহমেদের ব্যাটের কানায় লেগে বল স্লিপের দিকে গেলে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন উইকেটকিপার লিটন দাস। এরপর ৮২.৫ ওভারে জিয়া-উর-রেহমানকে এলবিডব্লিউ করেন হাসান। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল অফ স্টাম্পের ওপরের অংশে আঘাত করত।
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এর আগে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি, ২০০৩ সালে, এবং সোহাগ গাজী, ২০১৩ সালে। হাসান হলেন দেশের তৃতীয় বোলার, যিনি টেস্টে এই কীর্তি গড়লেন। পেসারদের মধ্যে প্রথম। টেস্টে এটি হাসানের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের ইনিংসও।
হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান। ইয়ামিন আহমদজাইকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করে ইনিংসে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন তিনি। তাতে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন এই পেসার। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দ্রুততম সময়ে এই কীর্তি গড়েছেন হাসান। এর আগে পেসারদের মধ্যে ৫০ বা তার বেশি টেস্ট উইকেট ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তাসকিন আহমেদের।
আফগানিস্তানের হয়ে ব্যাট হাতে লড়াই করেছেন অধিনায়ক রহমত শাহ। দল দ্রুত উইকেট হারালেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি পেলেন রহমত। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ শতক, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়। এ ছাড়া আব্দুল মালিক করেন ৬২ রান। তবে অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ইবাদত হোসেন ৫৬ রানে পেয়েছেন ৪ উইকেট। দিনের শুরুতে আফগানিস্তানের হাতে ছিল ৬ উইকেট, কিন্তু হাসান ও ইবাদতের বোলিংয়ের সামনে দ্রুত সব উইকেট হারায় তারা।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান করে। ওপেনার তানজিদ হাসান ৮৩ ও সাদমান ইসলাম ৬৭ রান করেন। লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান, মুমিনুল হক করেন ৩৯, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ২৯, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪ এবং নাঈম হাসান অপরাজিত ৩৫ রান করেন। আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ সেলিম সাফি ৮২ রানে ৪ উইকেট নেন, ইয়ামিন আহমদজাই পান ৩ উইকেট।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। সেদিন আর ২৯ রান যোগ করে অলআউট হয় তারা। এরপর বল হাতে শুরুটা ভালো করেছিল বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ সেদিকউল্লাহ আতালকে ফিরিয়ে প্রথম উইকেট এনে দেন। পরে ইবাদতের বলে শহিদুল্লাহ কামালের ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় ডিপ ফাইন লেগে, যেখানে দৌড়ে গিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন হাসান।
তবে এরপর রহমত শাহ ও আব্দুল মালিকের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। তৃতীয় উইকেটে দুজন যোগ করেন ৭০ রান। ৬২ রান করে মালিক ইবাদতের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে জুটি ভাঙে। পরে মিরাজের বলে স্টাম্পড হন হাশমতউল্লাহ শহিদী। দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান ছিল আফগানিস্তানের, রহমত ৮৪ ও ইকরাম ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১০৬ রানে এগিয়ে থাকায় ম্যাচে এখন সুবিধাজনক অবস্থানে নাজমুল হোসেনের দল।














-166aa8-256x144.webp)






