ইনিংস পরাজয় এড়ানো গেল না ম্যাকাইয়ে, সিরিজ শেষ ১-১ সমতায়

ক্রীড় ডেস্ক
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৪২
বল হাতে ত্রাস ছড়িয়েছেন মিচেল স্টার্ক। ছবি: ক্রিকইনফো
বল হাতে ত্রাস ছড়িয়েছেন মিচেল স্টার্ক। ছবি: ক্রিকইনফো

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পরাজয়ের লক্ষ্মণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তবু কিছুটা প্রত্যাশা ছিল, দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিরোধ গড়বেন টাইগার ব্যাটাররা। অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের দাপটে সেটি আর হয়নি। তাই প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেল ৯৫ রানে।

দ্বিতীয় দিনেই চা-বিরতি শেষ হতেই অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে বেঁধে রেখেও ইনিংস ও ৫১ রানের হারতে হলো বাংলাদেশকে। তাতেও অবশ্য দুই টেস্টের সিরিজের ফলাফল নিয়ে গর্বিত হতেই পারে বাংলাদেশ। ২৩ বছর পরে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়েই যে সিরিজ হারতে হয়নি। বরং ১-১ সমতা নিয়েই সিরিজ শেষ করার গৌরব অর্জন করেছে টাইগাররা।

ডারউইনে দাপুটে জয়ের পর ম্যাকাইয়ের দ্রুতগতির ও বাউন্সি উইকেটে এসে ব্যাটিংয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়েও অস্ট্রেলিয়ার করা ২১০ রান টপকাতে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর ছিলেন মিচেল স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও চারটি উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি পেসার। অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও দুই ইনিংসে তিনটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে চাপ ধরে রাখেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন অধিনায়ক শান্ত। দুই ইনিংস মিলিয়েও এটিই ছিল কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এ ছাড়া মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ছিলেন ২৫ রানে। তবে তাদের প্রতিরোধ ইনিংস ব্যবধান এড়ানোর মতোও যথেষ্ট ছিল না।

এর আগে প্রথম ইনিংসে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেছিলেন শরিফুল ইসলাম। পুরো টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতা বোঝাতে এই দুই সংখ্যাই যথেষ্ট।

অথচ বল হাতে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন শরিফুল। অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানের ইনিংসে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নেন তিনি। তার বোলিংয়েই স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ সীমিত ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেন ক্যামেরন গ্রিন। তিনি করেন ৬৭ রান। এ ছাড়া স্টিভ স্মিথ ৪২, নাথান লায়ন ৩২ ও ট্রাভিস হেড ২২ রান করেন। বাকিদের কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।

দুই টেস্টের সিরিজে তাই একেবারে দুই রকম বাংলাদেশকে দেখা গেল। ডারউইনে টানা সাড়ে তিন দিন অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে ৯ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছিল তারা। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই সেই ম্যাচে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ।

ম্যাকাইয়ে অবশ্য ছবিটা পুরো উলটো। বোলাররা নিজেদের কাজটা করার চেষ্টা করলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় মাত্র দুই দিনেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। ডারউইনে হারের পর সিরিজ বাঁচাতে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ম্যাচে জয় ছিল অপরিহার্য। শেষ পর্যন্ত দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে তারা।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
ইনিংস পরাজয় এড়ানো গেল না ম্যাকাইয়ে, সিরিজ শেষ ১-১ সমতায়