মানি লন্ডারিং: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ আগরওয়ালা এক দিনের রিমান্ডে

প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা সংগ্রহের আড়ালে চোরাচালান ও অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এসআই মো. আশরাফুল হাসান মঙ্গলবার দিলীপ আগরওয়ালাকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলার ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা, সোনা ও হীরার প্রকৃত উৎস খুঁজে বের করা, এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অর্থ পাচারের পরিধি নির্ধারণে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার কবীর বাবুল রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সোনা ও হীরার উৎস নিয়ে প্রশ্ন
সিআইডির একটি সূত্র জানায়, সোনা ও হীরা সংগ্রহের আড়ালে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা পাচারের অভিযোগে দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা রয়েছে। সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের সোনা ও হীরা সংগ্রহের উৎস এবং সরবরাহকারীদের বৈধ নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সোনার বার, অলংকার এবং অলংকারে বসানোর উপযোগী হীরা বৈধভাবে আমদানি করে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। তবে একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা, বিনিময় ও পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা সংগ্রহ করে।
সিআইডির অভিযোগ, স্থানীয় বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা ও হীরা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এসব পণ্যের উৎস এবং সরবরাহকারীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণে পণ্যগুলো অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ও অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি করেন। এতে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশে সোনা ও হীরার ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচার ও চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা
সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব (বর্তমানে এসআরবি)। ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশি হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় জামিন পেয়ে গত বছরের ১ অক্টোবর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। কারামুক্তির প্রায় এক বছর পর নতুন করে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।











-4ba358-256x144.webp)

-0eb550-256x144.webp)
-6036d8-256x144.webp)
