অর্থপাচারে অ্যাপল গ্লোবালটেলের এমডি-চেয়ারম্যানের জেল, ৯২৬ কোটি টাকা অর্থদণ্ড

আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের মাধ্যমে ৪৬৩ কোটি টাকার বেশি অর্থপাচারের মামলায় অ্যাপল গ্লোবালটেল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অভিউর রহমান খান ও চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মজুমদারকে মোট ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৯২৬ কোটি ৭৪ লাখ ৯২ হাজার ২৯৮ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত দুজনই পলাতক রয়েছেন।
দুদকের কৌঁসুলি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, “অর্থপাচারের দায়ে তাদের ১২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট ৪৬৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৯ টাকার দ্বিগুন ৯২৬ কোটি ৭৪ লাখ ৯২ হাজার ২৯৮ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও বছর বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।”
তিনই আরও বলেন, “এ ছাড়া অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে তাদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আসামিদের ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধ না করলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালতের স্টেনোগ্রাফার সোহানুর রহমান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অ্যাপল গ্লোবালটেলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের মাধ্যমে সেবা রপ্তানির আড়ালে ৪৬৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৯ টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়। পাচার করা অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২১ ডলার বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৫ মার্চ তিনি অভিউর রহমান খান ও মহিউদ্দিন মজুমদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
গত ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আট সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য নেন আদালত। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি।










-4ba358-256x144.webp)


-b5b2b5.jpg)


