রামিসা হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ১২: ১১
পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। ফাইল ছবি
পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। ফাইল ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার এ সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

এ দিন সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন। ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং মামলা বিচারের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটির বাবা জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে আসামিপক্ষ জেরা করবে। এরপর অন্যান্য সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হবে।

এ দিন রামিসার বাবার পাশাপাশি মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে— সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

সাক্ষ্য গ্রহণের সময় তাদের তোলা হয় এজলাসে। প্রিজন ভ্যান থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের কাছে ফের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন সোহেল। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "ডলারকে ধরেন। ধর্ষণ করছে ডলার, আমি জবাই করছি।"

গতকাল মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন এবং আজ মঙ্গলবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন আদালত। ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ গঠনের এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ওই ফ্ল্যাটের টয়লেটের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তার স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়।

পরে ওই দিনই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২০ মে বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।

রাজনীতি/আরআইআর

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement