জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় সাংবাদিক ইকবাল সোবহান কারাগারে

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বৃহস্পতিবার বিকেলে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আদালতে তোলা হয়। ছবি: সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার বিকেলে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আদালতে তোলা হয়। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদরাসাছাত্র আরিফ হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আমির হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে শুনানির আগে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হেলমেট, হাতকড়া ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে হাজতখানা থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় আদালতের কাঠগড়ায় আনা হয়। পরে পুলিশ তার হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও এক হাতের হাতকড়া খুলে দেয়। এ সময় তিনি আইনজীবী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন। বিকেল ৪টা ১ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব রাগীব বলেন, “মাননীয় আদালত, আমরা আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন করিনি। তিনি একজন সাংবাদিক, বয়স্ক ব্যক্তি। শারীরিক অসুস্থতা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা কারাগারে সুব্যবস্থার (ডিভিশন) আবেদন জানাচ্ছি।”

এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “আসামি সোবহান চৌধুরী ফ্যাসিস্ট হাসিনার অন্যতম দোসর ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনাকে সন্তুষ্ট করে তথ্য উপদেষ্টা পদসহ নানা সুবিধা বাগিয়ে নেন এবং এই পদ ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা ও বিভিন্ন টিভির লাইসেন্স বাণিজ্য করেন।”

আইনজীবী ওমর ফারুক শুনানিতে আরও বলেন, “তিনি (ইকবাল সোবহান চৌধুরী) জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় সরাসরি বিরোধিতা করে শেখ হাসিনার পক্ষে বয়ান তৈরি করেছেন। তার জন্য কারাগারে ডিভিশন প্রদানের কোনো কারণ নেই। তিনি কোনো মন্ত্রী এমপি না যে তিনি ডিভিশন পাবেন।”

পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আবারও ডিভিশন দেওয়ার আবেদন জানান। জবাবে বিচারক বলেন, “জেল কোড অনুযায়ী উনি যে সুবিধার প্রাপ্যতা রাখেন তিনি সেটাই পাবেন। এটি আমি লিখে দেবো।”

এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসির কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। একই সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও পুলিশ নিয়ে যায়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ আরিফ হোসেন (১৮) গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় আরিফের বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরী এ মামলার ৫৩ নম্বর আসামি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad