আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমণি

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আদালতে পরীমণির পক্ষে জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী। আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় পরীমণির জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে জানান এ আইনজীবী।
এর আগে বুধবার একই আদালত পরীমণির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। ওই দিন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ থাকলেও পরীমণি আদালতে হাজির হননি। তার পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময়ের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত কারণে পরীমণি অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল এর বিরোধিতা করে জামিন বাতিলের আবেদন করেন। তার আবেদনে বলা হয়, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করছেন, এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
পরে আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে পরীমণির জামিন বাতিল করেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন আদালতে মামলাটি করেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন আদালত।
২০২৩ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দেন। এতে তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়।
ওই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত দুই আসামিকে ২৫ জুন হাজির হতে সমন জারি করেন। নির্ধারিত দিনে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তারা।
এরপর গত বছরের ২৬ জানুয়ারি পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জুনাইদ। সেদিন পরীমণি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
পরে ২৭ মার্চ অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন আবেদন করেন পরীমণি। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাজ্জাদুর রহমান খান আবেদনটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মামলাটি চলতে কোনো বাধা নেই বলে আদেশ দেন আদালত।


-e7c2bf.jpg)









-e7c2bf-256x144.webp)


-68a025-256x144.webp)