তাহসিফ হত্যা মামলা: তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দীপকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে রিমান্ডের পক্ষে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তাহসিফকে হত্যার কারণ— পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন কিংবা রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ নিশ্চিত হওয়া এবং হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা।
এ ছাড়া রিমান্ড আবেদনে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, ভাড়াটে খুনি বা সহযোগী কেউ জড়িত কি না, তা শনাক্ত করা এবং তাদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যের সঙ্গে আসামির জবানবন্দি মিলিয়ে দেখা এবং হত্যার ধরন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার জন্যও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে দীপের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দীপের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় আসা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নেমে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরদিন দীপ দাবি করেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি।
তাহসিফের লাশ উদ্ধারের পর তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় দীপের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে ৩০ অক্টোবর রাতে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই রাতেই তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা করলে দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান। এরপর মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন দীপ। পরে গত শুক্রবার পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ মামলায় তাহসিফের ‘বান্ধবী’ জেরিকা তাসনিম দিশাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। গত রোববার তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। ওই রিমান্ড শেষে বুধবার দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ঘটনার দিন রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে দিশাকে দেখা গিয়েছিল।














-1996a7-256x144.webp)
