অনলাইনেই পরিচয়-বিয়ে, পরে প্রবাসী জানলেন ‘স্ত্রী’ আসলে তরুণ

ফেসবুকে পরিচয়ের পর মুঠোফোনেই বিয়ে করেছিলেন ইতালিপ্রবাসী খোরশেদ আলী (৪৮)। প্রায় ছয় মাস পর গতকাল বুধবার ভিডিও কলে ‘স্ত্রী’কে দেখতে গিয়ে জানতে পারেন, ‘সুমাইয়া’ নামে যার সঙ্গে এত দিন কথা বলেছেন, তিনি আসলে নারী নন। ‘শান্ত আলী’ নামে এক তরুণ মেয়েলি কণ্ঠে কথা বলে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
খোরশেদ আলীর সঙ্গে প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে ‘সুমাইয়া’ নামে এক নারীর পরিচয় হয়। পরে মেসেঞ্জারে নিয়মিত কথাবার্তার একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মুঠোফোনেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন তারা। বিয়ের পর কয়েকবার ভিডিও কলে চেহারা দেখতে চাইলেও নানা অজুহাতে নিজেকে আড়ালে রাখতেন কথিত স্ত্রী।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে খোরশেদ কথিত সুমাইয়াকে ভিডিও কল করলে সেটি ধরেন নাটোরের লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। তখন ওসি তাকে জানান, নারী ভেবে যাকে তিনি বিয়ে করেছেন, তিনি আসলে ‘শান্ত আলী’ নামে এক তরুণ। মেয়েলি কণ্ঠে কথা বলে ওই তরুণ এত দিন তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।
ইতালিপ্রবাসী খোরশেদের দাবি, বিয়ের পর গত কয়েক মাসে ভরণপোষণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে তার কাছ থেকে তিন লাখের বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। ভিডিও কলে চেহারা দেখতে চাইলে কথিত সুমাইয়া মুঠোফোনের সামনের ক্যামেরা নষ্ট থাকার কথা বলতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে নিজেকে আড়ালে রাখতেন।
পুলিশ জানায়, প্রতারণার অভিযোগে বুধবার সকালে লালপুরের গন্ডবিল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আটকের পরই কথিত সুমাইয়ার আসল পরিচয় সামনে আসে।
পুলিশ ভিডিও কলে প্রথমবারের মতো কথিত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার নামধারী শান্ত আলীকে দেখালে খোরশেদ আলী বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন ধরনের প্রতারক থাকতে পারে, তা আমি কখনোই ভাবিনি। ওর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’
পুলিশের ভাষ্য, ২০ বছর বয়সী শান্ত আলী লেখাপড়া জানেন না। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারে তিনি দক্ষ। মুঠোফোনে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে নারী কণ্ঠে কথা বলা এবং খুদে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারেন।
শুধু কথিত সুমাইয়ার (শান্ত আলী) সঙ্গেই নয়, বিয়ের পর তার বাবা শহিদুল ইসলামের সঙ্গেও একাধিকবার শ্বশুর হিসেবে কথা বলেছেন খোরশেদ আলী। এসব কথাবার্তায় প্রতারণার বিষয়টি তার কাছে ধরা পড়েনি। পুলিশের দাবি, বিষয়টি জেনেও ছেলেকে প্রতারণার কাজে সহযোগিতা করেছেন শহিদুল ইসলাম।
শান্ত ও শহিদুলকে গ্রেপ্তারের সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, এসব মুঠোফোনে খোরশেদের সঙ্গে খুদে বার্তা বিনিময়ের একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
খোরশেদ আলীর বরাত দিয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, শান্ত আলী প্রথমে এক নারীর ছবি ব্যবহার করে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই খোরশেদের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং মেসেঞ্জারে কথাবার্তা শুরু করেন। পরে ওই নারীর তিনটি ছবি খোরশেদকে পাঠানো হয়।
ওসি আরও বলেন, বাড়ির পাশের জমি কেনার কথা বলে একদিনে প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়েছেন শান্ত আলী। এ ছাড়া দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কথা বলেও টাকা নিয়েছেন। সব মিলিয়ে খোরশেদের কাছ থেকে তিন লাখের বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



















