একাত্তরের পরাজিত শক্তি পরিকল্পিতভাবে জাতিকে বিভক্ত করতে চায়: প্রিন্স

একাত্তরের পরাজিত শক্তি পরিকল্পিতভাবে জাতিকে বিভক্ত করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ-১ আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার বিরোধিতা যারা করেছিল, তারা নিজেদের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। আজও তারা বাংলাদেশপন্থি হতে পারেনি। স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের হাতে দেশের স্বাধীনতা নিরাপদ নয়।’
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে হালুয়াঘাটে উপজেলায় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রা শেষে হালুয়াঘাট শহীদ মিনারে ও ধোবাউড়া শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ একাত্তরের চেতনা ধ্বংস করেছিল উল্লেখ করে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান সেই চেতনাকে পুনরুদ্ধার করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথ নির্দেশনা দিয়েছে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে বিদেশিদের প্রেসক্রিপশনে রাজনীতি বা দেশ চলবে না। দেশ চলবে দেশবাসীর কথায়। যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা একাত্তরকে নয়, শুধুমাত্র চব্বিশকে নিজেদের কলিজার টুকরা মনে করে। তারা ছাব্বিশ দিয়ে একাত্তরকে মুছে দিতে চায়। অথচ একাত্তরই আমাদের রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতা বিরোধীদের মুখে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের কথা মানায় না।’
‘যারা স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে ক্ষমতায় থেকে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তারাই আজ সবচেয়ে বড় ভণ্ড। জনগণ আর বিভ্রান্ত হবে না। সময় এসেছে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করে দেওয়ার,’— বলেন এমরান সালেহ প্রিন্স।
বক্তব্যের শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে দেশবাসীকে বিএনপির পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপি একটি ইনক্লুসিভ, পজেটিভ ও বেটার বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিজয় দিবসে শপথ হোক— আমরা একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
হালুয়াঘাট উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে পৌর শহরের কোর্ট ভবন চত্বরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এরপর শোভাযাত্রায় বের হয় এবং বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর বাজারে শহীদ মিনারে গিয়ে তা শেষ হয়। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।



















