সরকারি সুবিধার আশ্বাস, ৩০ নারীর লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
-a84a4b-480x270.webp)
ময়মনসিংহের নান্দাইলে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৩০ জন অসচ্ছল নারীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথা বলে তিনি এসব টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সদস্যের নাম হানিফ মিয়া। তিনি নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বাতুয়াদী গ্রামের বাসিন্দা। অসচ্ছল নারীদের থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কোনা দেউলডাংরা, তেলিয়া ও বাতুয়াদী গ্রামের প্রায় ৩০ জন নারীর কাছ থেকে টাকা নেন হানিফ। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
কোনা দেউলডাংরা গ্রামের সালমা খাতুন, অজুফা, ললিতা, তানিয়া, রাবিয়া, রুশেদা, আকলিমা, সাহানা ও শামছুন্নাহার এবং বাতুয়াদী গ্রামের রুমাসহ কয়েকজন নারী এ অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এসব টাকা নেন হানিফ।
সোমবার (২ নভেম্বর) ওই গ্রামে গেলে ভুক্তভোগী নারীরা বলেন, “আমরা অসহায় ও দরিদ্র মানুষ। টাকা দিলে সরকারি তালিকায় নাম উঠানোর আশ্বাস দেন হানিফ মিয়া। তাই আমরা হানিফ মিয়ার হাতে টাকা দিয়েছি। এখন তিনি কোনো সুযোগ-সুবিধার কার্ড করে দিতে পারছেন না। আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।”
ভুক্তভোগী নারীরা বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন মণ্ডলকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, নারীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর গ্রাম পুলিশ সদস্য হানিফকে টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হানিফ মিয়া। তিনি বলেন, “সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে আমি টাকা নিইনি। নারীদের কাছ থেকে হাওলাত (ধার) হিসেবে টাকা নিয়েছি। টাকা ফেরত দিতে দেরি হওয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।”
এদিক স্থানীয় আরেকটি সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত হানিফ মিয়া অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


-8bc2ef.jpg)














