মেয়ের সহপাঠীকে ধর্ষণের পর হত্যা, মরদেহ ঘরের মেঝেতে মাটিচাপা

জামালপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ০১
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিজের মেয়ের সাত বছরের এক সহপাঠীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মেয়েটির বাবা জামিনুর ইসলামের (৩২) বিরুদ্ধে। বিদ্যালয় থেকে সহপাঠীকে খুঁজতে তাদের বাড়িতে যাওয়ার পর শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তার মরদেহ জামিনুরের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জামালপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জামিনুর ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন।

নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে শনিবার রাতে সহপাঠীর বাবা জামিনুর ইসলামের বসতঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, বিদ্যালয়ের পাশেই জামিনুর ইসলামের বাড়ি। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে শিশুটি প্রায়ই জামিনুরের মেয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করত। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় থেকে সহপাঠীকে খুঁজতে শিশুটি তাদের বাড়িতে যায়। সে সময় জামিনুরের স্ত্রী সবুজা (২৫) সন্তানদের নিয়ে তার বোনের বাড়িতে রান্না করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে জামিনুর ছাড়া আর কেউ ছিল না।

সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে জামিনুর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার মরদেহ ঘরের মেঝেতে গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।

শনিবার রাতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পরই জামিনুর ও তার স্ত্রী সবুজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহত শিশুটির মামা বলেন, ‘মানুষটি কীভাবে এত ছোট ও নিষ্পাপ একটি শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা চালাতে পারলেন!’ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
মেয়ের সহপাঠীকে ধর্ষণের পর হত্যা, মরদেহ ঘরের মেঝেতে মাটিচাপা