‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে ভুক্তভোগী’— সেই সাথী আক্তারের জামিন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে বিএনপি সরকার ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা ময়মনসিংহের নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তারকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
ফেসবুক লাইভে ‘বিএনপিকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলে আলোচনায় আসেন তিনি। ফেসবুক লাইভের পর সাথী আক্তারের দোকানের সামনে লোকজন ভিড় করলে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছিল। পরে পুলিশ বাদী হয়ে তার নামে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় মামলা করে গ্রেপ্তার দেখিয়েছিল।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলাম জামিন দেন সাথী আক্তারকে। জামিন আদেশের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে কারামুক্তিও পেয়েছেন তিনি।
আদালত পরিদর্শক মোহা. মোস্তাছিনুর রহমান জানিয়েছেন, ৫০০ টাকার মুচলেকায় সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সাথী আক্তার ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে অবস্থিত ‘সাথী বিউটি পার্লারে’র স্বত্বাধিকারী। দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক ২৪ হাজার টাকা মূল্যের কারেন্টের তার চুরি হওয়ায় গত রোববার ফেসবুকে দুটি লাইভ করেন তিনি। দুটি ভিডিওতেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বাড়ি থেকে মোবাইল, স্যান্ডেলসহ নানা জিনিস চুরির অভিযোগও করেন তিনি।
‘দেশে কেউ নিরাপদে নেই’ বলে ক্ষোভ জানিয়ে সাথী লাইভে বলেন, এখন আমাদের কিছু করার নাই, ব্যবসায়ীদের কোনো নিরাপত্তা নাই। কোনো মানুষই নিরাপদ না এখন। এই ২৬ সালেই এতো কিছু ঘটনা ঘটল। জুতা দিয়া কপালে মারি। কারণ এই ২৬ সালে আইসা আমরা যে ভুক্তভোগী হইছি তা বলার মতো না।
সাথী আক্তার আরও বলেন, ২৬ সালে সরকাররে আমি এই হাত দিয়া ভোট দিছিলাম না, এই আঙুলে বাইড়াই, এই যে এইরকম। বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে এই ভুক্তভোগী। ২০২৬ সালের আগে কখনো এমন ভুক্তভোগী হইনি।
লাইভের পর সাথী আক্তারের প্রতিষ্ঠানের সামনে বেশ কিছু মানুষ জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও প্রতিবাদ জানান। এ সময় সাথী আক্তারের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ক্ষুব্ধ জনতা সাথী আক্তারের দোকান ভাঙচুর করতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা মূলত প্রতিরোধমূলক। সাথী আক্তারের আচরণের কারণে লোকজন আরও উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছিল এবং একপর্যায়ে সেখানে ভাঙচুর-সড়ক অবরোধের মতো ঘটনা ঘটতে পারত। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে ১৫১ ধারায় মামলা করা হয়েছে।













-11dfae-256x144.webp)

