নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ গেল সাংবাদিকের

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নিহত সাংবাদিক লুৎফরুজ্জামান আলীফ ফকির। ছবি: সংগৃহীত
নিহত সাংবাদিক লুৎফরুজ্জামান আলীফ ফকির। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার দূর্গাপুর পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় দুবৃত্তদের গুলিতে লুৎফরুজ্জামান ফকির (আলীফ) নামে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাকে অনুসরণ করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করেছে, এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ হত্যাকারীদের ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এলাকাবাসী। পরে পুলিশ গুলিবিদ্ধ আলীফকে দূর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত লুৎফরুজ্জামান আলীফ ফকির (৪৫) নেত্রকোন জেলার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামের বাসিন্দা। বাবা মহব্বত আলী ফকির। আলীফ দূর্গাপুর পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। নিহত আলীফ ফকিরের স্ত্রী আদিবাসী বংশধর।

আলীফ ফকির ‘রূপসী বাংলা’ টেলিভিশনের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। তিনি একসময় সেনা সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আলীফ ফকির তেলুঞ্জিয়া এলাকার রবিন সাংমার দোকানে তার রেখে যাওয়া মোবাইল ফোন নিতে যান। এ সময় দুজন তার পিছু নেন। এর পরপরই কয়েকটি গুলির শব্দ পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলেও সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী চা দোকানের মালিক রবিন রাংসা বলেন, ঘটনার আগে দুই ব্যক্তি দোকানে এসে সিগারেট কেনেন। তাদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। এর আগে আলীফ ফকির আমার দোকানে একটি মোবাইল ফোন রেখে গিয়েছিলেন। পরে ওই মোবাইল ফোন নিতে আসেন তিনি। এরপর ওই দুই ব্যক্তি সিগারেট নিয়ে আলীফ ফকিরের পিছু নেন। এর পরপরই আমি তিনটি গুলির শব্দ শুনতে পাই। পরে ভয়ে দোকান থেকে বাড়ির ভেতরে চলে যাই।

নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা জানান, ঘটনার সময় বাসায় ছিলাম। আলীফকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই।

দূর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement