খুলনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা, যন্ত্রপাতি-আসবাব ভাঙচুর

খুলনা নগরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা চালিয়ে দুটি এসি, একটি টেলিভিশন, দরজার কাচ, অভ্যর্থনাকক্ষের কাউন্টারসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করেছে একদল যুবক। এ সময় প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এক মাসের মধ্যে নগরে এটি চতুর্থ কোনো চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নগরের খানজাহান আলী রোডের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে এ হামলা হয়। খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে পাঁচজন যুবক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঢুকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে।
ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, “বেশ কিছুদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিম বাহিনীর এক সদস্য আমাকে ফোন করেন। আমি বলি এই নামে কাউকে চিনি না। এ কথা বলার পরপরই বিপরীত দিকে থেকে ফোন কেটে দেওয়া হয়।”
তবে ওই ফোনের সঙ্গে হামলার কোনো সম্পর্ক আছে কি না কিংবা মালিকপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের পিটিআই মোড়কেন্দ্রিক কয়েকটি ভাঙচুরের ঘটনায় নূর আজিম ও তার বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, চাঁদা না দেওয়া কিংবা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এর আগে অক্টোবরের মাঝামাঝি নগরের রয়েল মোড়ের সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর ২৪ অক্টোবর সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে মুখোশধারী ৮ থেকে ১০ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার-টেবিল ও ক্যাশ কাউন্টার ভাঙচুর করে। যাওয়ার সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ক্লিনিকের বাইরে ফাঁকা গুলিও ছোড়ে।
সন্ধানী ক্লিনিকে হামলার চার দিন পর ২৮ অক্টোবর আহসান আহমেদ সড়কের ‘চাইনিজ প্যালেস’ রেস্তোরাঁয়ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন যুবক রেস্তোরাঁয় ঢুকে মালিককে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে এবং কর্তৃপক্ষ তাদের ‘ভাইয়ের’ ফোন না ধরায় তারা রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর চালান।
এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শামসুর রহমান রোডের রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা নগরে বিভিন্ন নামে অন্তত নয়টি বাহিনী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারে জড়িত। এর মধ্যে নূর আজিমের নেতৃত্বাধীন বাহিনীও রয়েছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা কোনো মামলা করেননি। তবে সন্ধানী ক্লিনিকে হামলা ও ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।












-314178-256x144.webp)
-26b09f-256x144.webp)
