টেকনাফের সেই পাহাড়ে ৩ মরদেহের খোঁজে অভিযান, পায়নি যৌথ বাহিনী

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
দুর্গম পাহাড়ে তিন মরদেহের খোঁজে অভিযান চালিয়ে পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত
দুর্গম পাহাড়ে তিন মরদেহের খোঁজে অভিযান চালিয়ে পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। তবে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান শেষ করে ফিরে যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ অভিযান চলে। সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে এতে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ে গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনো মরদেহের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কেউ মরদেহ সরিয়ে ফেলেছে কি না, এমন কোনো তথ্যও পুলিশের কাছে নেই।

অভিযানে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন ভুট্টা বলেন, সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পাহাড়ে গিয়েছি। সেখানে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। শুধু দু-একটি রান্নার পাতিল ও বিছানাপত্র পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, পাহাড়টি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় মরদেহ থাকলেও খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর পাচারকারীরা যদি মরদেহ সরিয়ে ফেলে, তাহলে তা খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হবে। পাহাড়ের প্রতিটি পথ তাদের পরিচিত।

তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজন শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, বন্দিশালার আশপাশে তিনি তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। গোলাগুলির ঘটনায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলেও শুনেছেন। তবে মরদেহগুলো মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের, নাকি বন্দিদশা থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো ব্যক্তির, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি।

লেদা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে যাওয়ার আগেই সেখানে মরদেহ থাকার কথা শোনা গেছে। উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরাও মরদেহ পড়ে থাকার কথা বলেছেন। তাহলে এখন মরদেহগুলো গেল কোথায়? বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে সেখানে আদৌ কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, থাকলে সংখ্যা কত— তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরী বলেছিলেন, “এইরকম একটি মেসেজ এখানে আছে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত নই। আদৌ ওইখানে লাশ আছে, নাকি নেই। থাকলে কয়টা আছে।”

অন্যদিকে ওসি সাইফুল ইসলাম মরদেহ পড়ে থাকার খবর অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, ওই এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “অভিযান চলছে। লাশের খবরটা আমরা শুনেছি। এখন পুলিশ দেখবে যে কী অবস্থা।”

এর আগে বৃহস্পতিবার রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গহীন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালিকে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়।

ওই অভিযানে মানবপাচারকারীদের একটি গোপন বন্দিশালা থেকে ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়। অভিযান চলাকালে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র পাচারকারীদের গোলাগুলি হয়। এতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad