শামীমকে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত আমিনী গ্রেপ্তার, বললেন অনুতপ্ত নই

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী। ছবি: সংগৃহীত
শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তিনি জানিয়েছেন, শামীমকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিটিয়ে মারা না হলেও এ ঘটনার জন্য তিনি অনুতপ্ত নন।

আমিনী বলেন, পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত হয়ে গেছে। যে কাজটি করেছি, আপনারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। আল্লাহ পাক ফয়সালা করবেন। আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে পুলিশ ও এসআরবি যৌথ অভিযান চালিয়ে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

পরে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় ফজলুল হক আমিনীকে। বিকেল ৪টার দিকে তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, শামীম হত্যায় জড়িত থাকার কথা ফজলুল হক আমিনী স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিতে চেয়েছেন। এ কারণে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে পুলিশ।

এর আগে গত মঙ্গলবার শামীমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ম অবমাননার কথা বলে তাকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ হত্যা করা হয়েছে। নিহত শামীম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলেও জানান তার স্বজনরা।

পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার শামীম ও তার স্ত্রীর বাগ্‌বিতণ্ডার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সে অভিযোগই বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা এবং বাজারে শামীমকে মারধর করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এ ঘটনার পর শামীম বিষপান করেন। চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের চেম্বরে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে শামীমকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর করেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালে ঢুকে শামীমকে মারধর করা হয়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

হত্যার ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। সেখানে ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করে আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে।

এর মধ্যে শুক্রবার ভোরে পুলিশ এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি মোক্তার হোসেন খান (৫৩) ও ৬ নম্বর আসামি আসাদুল ইসলাম মোল্যাকে (৪৬) গ্রেপ্তার করে। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

শামীম হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেছে পরিবার। শামীমের ছোট ভাই তাওসিফ রহমান বলেন, মামলার ২ নম্বর আসামি কামরুল গাজী পুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন এবং কারা মূল ভূমিকা পালন করেছেন, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

স্থানীয় জামায়াত অবশ্য এ ঘটনায় তাদের সংগঠনের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কামরুল গাজীর নাম ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানো হয়েছে বলে পালটা অভিযোগ তাদের। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বিবৃতি দিয়ে এ ঘটনায় জামায়াতের নাম জড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement