মাধবপুর ভূমি অফিসে ১৮ পদের ১০টিই শূন্য, ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশীরা

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা ভূমি অফিসে কানুনগো ও সার্ভেয়ারসহ ১৮টি পদের মধ্যে ১০টিই শূন্য। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় নিয়মিত ভূমিসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। জনবল সংকটের কারণে ই-নামজারিসহ ডিজিটাল ভূমিসেবার সুফলও পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদ কানুনগো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ পদে কর্মরত সাইফুদ্দিন আহমেদ ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বদলি হওয়ার পর থেকে পদটিতে আর কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রায় ছয় বছর ধরে পদটি শূন্য রয়েছে।
অন্যদিকে, সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম প্রায় চার মাস আগে পদোন্নতি পেয়ে কমলগঞ্জ ভূমি অফিসে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে সার্ভেয়ার জোনায়েদ আহমেদ হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত থাকার পাশাপাশি সপ্তাহে এক দিন মাধবপুর উপজেলা ভূমি অফিসে কানুনগোর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে তার বিরুদ্ধে তদবিরের কাজকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। তাদের অভিযোগ, সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত থেকেও তিনি কানুনগোর দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি দালাল চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর উপজেলায়। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
কানুনগো ও সার্ভেয়ারের পাশাপাশি ভূমি অফিসের চেইনম্যান, জারিকারক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং নাজির কাম ক্যাশিয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদও শূন্য রয়েছে। এতে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা এবং সেবাপ্রত্যাশীদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
উপজেলা ভূমি অফিসের পাশাপাশি ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতেও জনবল সংকট রয়েছে। মাধবপুর উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস হলো মনতলা, মাধবপুর সদর, আদাঐর, নোয়াপাড়া ও কালিকাপুর।
মনতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জুনাইদ আহম্মদ জানান, আয়তনের দিক থেকে মনতলা সিলেট বিভাগের অন্যতম বড় ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এ কার্যালয়ের আওতায় ৯৯টি মৌজা রয়েছে। ছয়টি পদের বিপরীতে বর্তমানে দুজন কর্মকর্তা ও দুজন এমএলএসএস কর্মরত আছেন।
তিনি বলেন, এলাকায় বালুমহাল থাকায় অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে যেতে হয়। জনবল সংকটের কারণে এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মরতদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
মাধবপুর সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের মধ্যে দুটি শূন্য রয়েছে। নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও দুটি পদ খালি। ফলে এসব কার্যালয়ে নিয়মিত ভূমিসেবা দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা লোকমান হোসেন জানান, তার কার্যালয়ে ছয়টি পদের মধ্যে চারটিই শূন্য। এলাকায় নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠায় ভূমিসংক্রান্ত কাজের চাপও বেড়েছে। জনবল কম থাকায় দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে। এমনকি ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও অনেক সময় ছুটি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আদাঐর ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও একই চিত্র। সেখানে বর্তমানে একজন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও একজন এমএলএসএস কর্মরত রয়েছেন।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যে এ সংকট কমে আসবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা না হলে ভূমি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে ই-নামজারিসহ ডিজিটাল ভূমিসেবা কার্যক্রমের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।













-9d4e46-256x144.webp)


