নারীসহ কয়েকজনকে ইউপি চেয়ারম্যানের লাঠিপেটা, ভিডিও ভাইরাল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এক নারীসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। ছবি: ভিডিও থেকে
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এক নারীসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। ছবি: ভিডিও থেকে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক নারীসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত বিভাষ সরকার উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

৫১ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে একটি চিকন লাঠি নিয়ে কয়েকজনকে সঙ্গে করে ঘটনাস্থলে যান বিভাষ সরকার। পরে একটি মাটির স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে উপস্থিত এক নারীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং অশালীন ভাষায় কথা বলেন। একপর্যায়ে ওই নারী প্রতিবাদ জানালে চেয়ারম্যান প্রথমে গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে ওই নারীকেও পেটাতে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভিডিওটি গত ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়। উপজেলার তেঘরী কেশব গ্রামে বাসন্তী রানীর জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের উদ্দেশ্যে মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাষ সরকারের বাড়িও একই গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ বছর আগে বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার, স্থানীয় উপেন্দ্র মণ্ডলসহ কয়েকজন নিজেদের জমিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। তার দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি তার মালিকানাধীন জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ভবনটি শুধু জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরে ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী ওই জমি তাঁর দুই মেয়ে রত্না সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে হস্তান্তর করেন।

বাসন্তী রানীর অভিযোগ, তার চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ফলে সেই চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা এবং মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।

বাসন্তী রানী বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিভাষ সরকারের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। তাদের অভিযোগ, সামান্য বিষয় নিয়েও তিনি মানুষকে মারধর করেন এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।

ছাওয়ালী বাজারের বাসিন্দা বিপুল দাসের অভিযোগ, প্রায় ছয় বছর আগে তাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভাষ সরকার তার লোকজন দিয়ে টাঙ্গাইলের আদালতে একটি মামলা করিয়েছিলেন। পাশাপাশি তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। যদিও আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন, তারপরও গত চার বছর ধরে তারা নিজেদের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। তার দাবি, ‘ওই মহিলা ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ-ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন। এ জন্য তাদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।’

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement