এনসিটি ইজারা: নৌমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর আমরণ অনশন স্থগিত
-12113d-480x270.webp)
চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবিতে ঘোষিত আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা। নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবির সঙ্গে আলোচনার পর গতকাল রোববার রাতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান কর্মসূচির আয়োজকরা।
বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ওই দিন রাজধানীতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বন্দরের কর্মচারী ও শ্রমিকদের চাকরির নিশ্চয়তা, শূন্য পদে নিয়োগ এবং অন্যান্য দাবিও তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন সোমবার সকালে বলেন, “নৌমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে আলোচনা হয়েছে। সরকার আমাদের দাবির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে। আশা করি, দ্রুত ইতিবাচক কিছু জানাতে পারব। এছাড়া শূন্য পদে নিয়োগসহ অন্য দাবির বিষয়েও কথা হয়েছে। এসব বিষয়ে কিছু প্রসেস আছে। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”
আলোচনা এবং মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে চট্টগ্রাম সফরের সূচি থাকায় সোমবারের পূর্বঘোষিত অনশন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান ইব্রাহিম খোকন। তিনি বলেন, “সব মিলিয়েই আজকের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী যেকোনো কর্মসূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।”
এর আগে গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের সামনে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচির শেষে সরকারকে আলোচনার জন্য ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে পরদিন আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
সেদিন ইব্রাহিম খোকন বলেছিলেন, “সরকারকে আমরা ১৮ তারিখ পর্যন্ত আলোচনার সময় দিলাম। এর মধ্যে কোন উদ্যোগ নেওয়া না হলে ১৯ অক্টোবর এখানেই আমরণ অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।”
গত ৮ অক্টোবর ঢাকায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি সই হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে কোম্পানির চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি সইয়ের দিন বিকেলেই চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের মূল প্রবেশপথের কাছে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকেই গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিরোধিতা করে গত কয়েক বছর ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছে বন্দরের কয়েকটি শ্রমিক ও কর্মচারী সংগঠন।


















