‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’— পুড়তে থাকা রিসোর্টের সামনে নারীর আহাজারি

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার, কক্সবাজার
আগুনে পুড়তে থাকা টুপটুপ রিসোর্টের সামনে স্বজনকে ফিরে পাবার আকুতি করছেন এক নারী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
আগুনে পুড়তে থাকা টুপটুপ রিসোর্টের সামনে স্বজনকে ফিরে পাবার আকুতি করছেন এক নারী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’— আগুনে পুড়তে থাকা রিসোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই স্বজনকে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানাচ্ছিলেন এক নারী। কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তার কান্নার একটি ভিডিও। স্বজনের খোঁজে ওই নারীর বুকফাটা আহাজারি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন অনেকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনের ভয়াবহতার মধ্যে বারবার একই কথা বলে কাঁদছেন ওই নারী। আশপাশের লোকজনের কেউ তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু স্বজনকে ফিরে পাওয়ার আকুতিতে ভেঙে পড়া ওই নারীর কান্না থামছে না।

জানা গেছে, দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। আনন্দের সময় কাটাতে এসে হঠাৎ এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তাঁরা। ওই নারী একজন সাংবাদিকের বোন বলেও জানা গেছে। তবে সাইফ তার কী হন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের পর সাইফের কী হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্বজনদের খুঁজে ফেরার এমন দৃশ্য ঘটনাটির মানবিক দিকটিও সামনে এনেছে। আগুনের পর সাইফের কী হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। এখনো তার সন্ধান মেলেনি। প্রিয়জনের খোঁজে ওই নারীর বারবার বলা ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’ কথাগুলো তাই স্বজনকে ফিরে পাওয়ার এক অসহায় আকুতি হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।

এর আগে ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার সময় রিসোর্টটিতে ১৭ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক।

সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কার্যক্রমে সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টটিতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল রহমান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ একসঙ্গে কাজ করেছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন সেখান থেকে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। রিসোর্টির মালিক নিয়াজ মোর্শেদ ও অংশীদার তানভীরের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের অবস্থান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রিসোর্সটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement