চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের বিক্ষোভ, কর্ণফুলীতে সড়ক অবরোধ

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী অংশে সড়ক অবরোধ করেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী অংশে সড়ক অবরোধ করেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামে’র সদস্যদের সংঘর্ষের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন চাকরিচ্যুতদের একটি অংশ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর জামালখান এলাকায় সমাবেশের পর সন্ধ্যায় কর্ণফুলীতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। একই সঙ্গে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কর্ণফুলী তৃতীয় সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে মহাসড়ক আটকে অবস্থান নেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজট তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে। তবে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা ধরে সেখানে বিক্ষোভ চলে।

আন্দোলনকারীদের কয়েকজন জানান, তারা চাকরি থেকে অবৈধভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে দাবি করছেন। পুনর্বহালের দাবিতেই তারা সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানও দিতে শোনা যায় তাদের।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ঢাকায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলার সময় তাদের ওপর অকারণে হামলা করা হয়েছে। ওই ঘটনার বিচারও দাবি করেন তারা।

কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমদ জানান, রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ কর্মসূচি শেষ করে চলে যান। তিনি বলেন, “আন্দোলকারীরা তাদের কর্মসূচি শেষ করে চলে গেছেন। এখন যান চলাচল শুরু হয়েছে। যানজট কমাতে আমরা কাজ করছি।”

এর আগে বিকেল ৫টার দিকে একই দাবিতে জামালখান এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ করেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ।

চট্টগ্রামের কর্মসূচির সূত্রপাত হয় ঢাকার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সোমবার সকালে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামে’র ব্যানারে থাকা একদল গ্রাহকের হাতাহাতি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিপরীত পাশে অবস্থান নেন তাদের বিরোধী একদল গ্রাহক। তারা ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গত মে মাস থেকে ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে গড়ায়। পরে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখান থেকে সরে যান। অন্যদিকে গ্রাহকেরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

ঢাকার ওই ঘটনায় জামায়াতপন্থিদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানাতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কর্মসূচি দেন চাকরিচ্যুতদের একটি অংশ। পাশাপাশি তারা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিও জানান।

অবরোধের কারণে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকে পড়া বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে ওই অংশ পার হতে দেখা যায়। নগরী থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দিকে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনের বড় একটি অংশ এই সড়ক ব্যবহার করে।

পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম শহরের দিকে আসা কয়েকজন যাত্রী বলেন, সড়ক অবরোধের কারণে গাড়ি চলাচল করতে না পারায় মইজ্জ্যারটেক থেকে কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত হেঁটে আসতে হয়েছে। গরমের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement