ফল আসেনি আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে, সাজেকে সড়ক অবরোধ অব্যাহত

রাঙ্গামাটি প্রতিনিথি ও
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
সোমবার সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। তবে বৈঠকে কোনো সমঝোতা আসেনি। ছবি: সংগৃহীত
সোমবার সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। তবে বৈঠকে কোনো সমঝোতা আসেনি। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করলেও কোনো সমঝোতা আসেনি সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে। জনসংহতি সমিতি (জেএসএস, সন্তু লারমা) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না আসায় কোনো সমঝোতায় আসতে রাজি হয়নি সংগঠন দুটি। তারা সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজো বাজারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দাবিগুলোর বিষয়ে উভয় পক্ষ কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলেও ভবিষ্যতে পুনরায় বৈঠকের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবির বিষয়ে সরকারি পক্ষ তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছিল বৈঠকে। তবে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতারা এতে সম্মত হননি। তারা সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের মধ্যে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।

গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, নির্ধারিত পাঁচ দিনের মধ্যে সন্তু গ্রুপের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা গেলে প্রয়োজনে সময় বাড়ানো যেতে পারে।

এ বিষয়ে সরকারি দল তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বৈঠক সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয় এবং অবরোধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মোট পাঁচ দফা দাবি লিখিতভাবে সরকারি দলের কাছে উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে প্রথম দাবিই চারটি অংশে বিভক্ত। সেগুলো হলো—

  • গত ২২ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে;
  • হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে বাঘাইহাট জোনের উপঅধিনায়ক মেজর মো. সালমান সিদ্দিক ও মাচালং ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন খন্দকার মেহেদী হাসানকে শাস্তি দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে বদলি করতে হবে;
  • গোলাগুলির মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও এক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে; এবং
  • ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।

বৈঠকে উত্থাপিত বাকি চার দাবি হলো—

  • উজো বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং একই সঙ্গে উজো বাজার থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করতে হবে;
  • সেনাবাহিনীর মারধরে আহত নারী-পুরুষের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকারকে গ্রহণ করতে হবে;
  • সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সাজেকে নিয়ে আসা হয়েছে বলে অভিযোগ করা জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের অবিলম্বে সাজেক থেকে সরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করতে হবে; এবং
  • আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

বৈঠকে সাজেকবাসীর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন— সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা, ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের উষাতন চাকমা, সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির জিকো চাকমা এবং সাজেক নারী সমাজের সদস্য সাধনা দেবী চাকমা।

সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মোর্তজা আলী খান এবং রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব।

সোমবার সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সাজেক ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে উপজেলা প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
সোমবার সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সাজেক ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে উপজেলা প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের গঠন করে দেওয়া তিন সদস্যের কমিটি সোমবার সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও জননিরাপত্তা নিয়ে হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে।

সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, কমিটির সদস্য ভবতোষ দেওয়ান, শান্তিবিজয় চাকমা, কল্যাণমিত্র চাকমা ছাড়াও বাঘাইছড়ি থানার ওসি নাসির উদ্দিন মজুমদার, সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন, সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাসহ বিএনপি নেতারা ও স্থানীয় হেডম্যান-কারবারিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এ মতবিনিময় সভায় গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad