সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি ফিরেছেন পর্যটকরা

রাঙ্গামাটি প্রতিনিথি
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ৩১
সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়ি ফিরেছেন সাজেকের পর্যটকবাহী গাড়ির বহর। ছবি: সংগৃহীত
সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়ি ফিরেছেন সাজেকের পর্যটকবাহী গাড়ির বহর। ছবি: সংগৃহীত

সড়ক অবরোধের কারণে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়ির বহরটি শহরে পৌঁছায়। এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তারা।

ফেরার পথে বিভিন্ন স্থানে অবরোধের মুখে পড়েন পর্যটকরা। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পর্যটকেরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান। এ ঘটনায় তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দফা দাবিতে বুধবার বিকেলে তৃতীয়বারের মতো সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সংগঠন দুটির সদস্যরা উজোবাজার এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করতে থাকেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে প্রায় তিন হাজার পর্যটক রওনা হন। তবে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে। বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীরা বাধা দেন। এ সময় প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও পালটাপালটি ধাওয়া শুরু হয়।

ঢাকা থেকে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক আবুল কাশেম বলেন, আমরা দুই রাত তিন দিনের ট্যুরে বুধবার সাজেকে গিয়েছিলাম। সেখানে পৌঁছে সন্ধ্যায় জানতে পারি, আন্দোলন চলছে। আজ আমাদের সাজেক থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিন দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে অগ্রিম টাকা দিয়েছি। এখন গাড়িভাড়ার বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেখতে হবে। এ ছাড়া ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিটও দুই দিন পরের। এখন বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

অয়ন নামে আরেক পর্যটক বলেন, সাজেক থেকে সেনাবাহিনীর এস্কটের মাধ্যমে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। পথে দুটি স্থানে প্রায় আধাঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে রাখায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে এসেছে। কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সড়কের ওপর অসংখ্য ভাঙা ইট ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। তবে পর্যটকদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

হবিগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক অপু বলেন, ঘুরতে এসেছি আনন্দ করতে। কিন্তু এখানে এসে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। আমরা গতকাল সাজেকে গিয়েছিলাম। আন্দোলনের কারণে ভালোভাবে সাজেক ঘুরে দেখতে পারিনি। সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের খবর শুনছিলাম। নিরাপদে ফিরতে পারবো কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছি।

অপু জানান, ফেরার পথে দুটি স্থানে তাঁদের গাড়িবহর আটকে পড়েছিল। বহরের সামনে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ছিল। আন্দোলনকারীরা সেনাবাহিনী ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী অবরোধকারীদের সড়কের দুই পাশে ছত্রভঙ্গ করে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো দ্রুত ওই এলাকা পার করে দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাজেকে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad