সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সড়ক অবরোধকারীদের গোলাগুলি

রাঙ্গামাটি প্রতিনিথি
উজোবাজার এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
উজোবাজার এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অবরোধকারীদের মধ্যে গোলাগুলি ও পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সাজেক সড়কে ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে নেওয়ার চেষ্টা করলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে তিন দফা দাবিতে তৃতীয়বারের মতো সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সংগঠন দুটির সদস্যরা উজোবাজার এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করতে থাকেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে প্রায় তিন হাজার পর্যটক রওনা হন। তবে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে। পরে বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীরা বাধা দেন। এ সময় প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও পালটাপালটি ধাওয়া শুরু হয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পর্যটকরা নিরাপদে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা এলাকার কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে। তবে অবরোধের কারণে তাদের যাত্রায় বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উজোবাজার এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুই রাজনৈতিক সংগঠনের বিরোধের জেরে এ অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেএসএসের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। তিনি বলেন, এসব ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। দীর্ঘদিন ধরে সাজেকে ইউপিডিএফ যে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও জনগণের ওপর শোষণ-পীড়ন চালাচ্ছে, সেখান থেকে নজর সরাতেই তারা এ কাজ করছে।

সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে। তবে তিন দফা দাবির সমাধান না হলে আটকে পড়া পর্যটকদের ছেড়ে দেওয়া হবে না। তারা সড়কে অবস্থান চালিয়ে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিন অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল। ওই সময়ে প্রশাসন তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের চলে যাওয়ার জন্য সময়ও দেওয়া হয়েছিল। তাই ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad