ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডের ২৯টিতেই এডিস মশার উচ্চ ঝুঁকি: জরিপ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ডোবায় জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
ডোবায় জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বেশি। এসব ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে নাগরিকরা সচেতন হলে প্রাথমিক পর্যায়েই এডিস মশার বিস্তার ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) নগর ভবন মিলনায়তনে ‘বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম।

ডিএসসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে এ জরিপ চালানো হয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি নমুনা হিসেবে নেওয়া হয়। জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন।

জরিপের তথ্য সংগ্রহ ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ ব্যবহার করা হয়। পরে ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কন্টেইনার ইনডেক্স (সিআই) ও পিউপা ইনডেক্স (পিআই) বিশ্লেষণ করে মশার লার্ভার ঘনত্ব এবং ডেঙ্গুর সম্ভাব্য হটস্পট চিহ্নিত করা হয়।

জরিপের ফলাফলে লার্ভার ঘনত্বের ভিত্তিতে ওয়ার্ডগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওয়ার্ডগুলো হলো— ১, ২, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৫ ও ৭১।

মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে ২৮টি ওয়ার্ড। সেগুলো হলো— ৪, ৫, ৬, ৮, ১০, ১৮, ২৩, ২৯, ৩০, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪৩, ৪৬, ৫১, ৫২, ৫৭, ৬৪, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭৩ ও ৭৫।

অন্যদিকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১৮টি ওয়ার্ড হলো— ৩, ৭, ১৭, ২৮, ৩৪, ৪১, ৪২, ৪৪, ৪৫, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬৩, ৬৬, ৭০, ৭২ ও ৭৪।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জরিপে নমুনা হিসেবে নেওয়া ২ হাজার ২৫০টি বাড়ির মধ্যে ৩২২টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে। বাড়ির ধরন অনুযায়ী বহুতল ভবনে ৩১ দশমিক ০৬ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ৩১ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সেমিপাকা বাড়িতে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, খালি প্লটে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং নির্মাণাধীন বাড়িতে ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

লার্ভা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পাত্রের মধ্যে প্লাস্টিকের বালতি শীর্ষে রয়েছে। এসব পাত্রের ১৪ দশমিক ২১ শতাংশে লার্ভা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্লাস্টিকের ড্রামে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ, বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিকের মগে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির আঙিনা ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানির বিষয়ে নাগরিকেরা সচেতন হলে প্রাথমিক পর্যায়েই ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ এডিস মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে সঠিক তথ্য ও সচেতনতামূলক বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা প্রত্যাশিত। নাগরিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি ডেঙ্গুমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ঢাকা গড়ে তুলতে পারব।”

জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানান প্রশাসক। এ ছাড়া প্রতি শনিবার ডিএসসিসির নিয়মিত ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা ও শৌচাগার পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমান, সচিব মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ সংস্থাটির বিভিন্ন বিভাগের ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad