সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে দুর্ব্যবহার পরীমণির, নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় আহত বিচারপ্রার্থী
-73bad5-480x270.webp)
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর আদালত থেকে বের হওয়ার সময় এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। এ সময় তাকে গালিগালাজও করেন তিনি।
অন্যদিকে, পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় মাথা ফেটে আহত হয়েছেন আদালতে আসা এক বিচারপ্রার্থী। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এসব ঘটনা ঘটে। পরীমণির আদালতে আসাকে কেন্দ্র করে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার আদালত পরীমণির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আদালতে পৌঁছান তিনি।
আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছে গাড়ির ভেতরেই বসে ছিলেন পরীমণি। এ সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়িটি ঘিরে রাখেন। আশপাশে মানুষের চলাচলও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা। কালো পোশাক পরা ১১ জন নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি সাধারণ পোশাকে আরও কয়েকজনকে পরীমণির সঙ্গে দেখা যায়।
পরীমণি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন— এ খবর পেয়ে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন সাংবাদিকরা। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে রওনা হন তিনি। নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ঘিরে আদালতের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার সময় ছবি ও ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি হয়।
লিফটে ওঠার সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন পরীমণি। পরে রবিউল টান দিয়ে ফোনটি ফিরিয়ে নেন।
এরপর ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমানের আদালতে যান পরীমণি। শুনানির সময় তিনি আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ান। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন পাওয়ার পর আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও নিরাপত্তারক্ষীরা পরীমণিকে ঘিরে রাখেন। এ সময় সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে আবারও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সুজন চন্দ্র মনি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায়। তার মাথা থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুজন চন্দ্র মনি দাসের ভাই বলেন, “আমরা আদালতে এসেছিলাম। এখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নায়িকা পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীরা ধাক্কা দিয়ে আমার ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।”
আদালতের নিচে নেমে গাড়িতে ওঠার আগে সমকালের সাংবাদিক রবিউল হোসাইনকে দেখে তার দিকে তেড়ে যান পরীমণি। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন তিনি। এরপর আদালত প্রাঙ্গণ ছেড়ে চলে যান। পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীরা আরও কয়েকজন সাংবাদিককে ধাক্কা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পরীমণির নিরাপত্তাকর্মী ও সহকারীরা নিরাপত্তা দিয়ে আদালত থেকে বের করে নিয়ে আসছিলেন। তিনি হেঁটে গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এমন সময় সাংবাদিকদের অনেকেই তাকে ঘিরে ধরেন। কেউ কেউ দূর থেকেই পরীমণিকে জামিন নিয়ে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, ‘জামিনের পরে আপনার প্রতিক্রিয়া কী, আমাদের মন্তব্যটা বলেন।’
কিন্তু পরীমণি এ সময় কারও কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। তিনি যাচ্ছিলেন তার সাদা গাড়ির দিকে। গাড়িতে উঠবেন, এমন সময় হঠাৎ মেজাজ হারিয়ে সমকালের সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে যান পরীমণি। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমার হাত দিয়েছিস ক্যান!’ সাংবাদিক রবিউল বলতে থাকেন, ‘আমি আপনার গায়ে হাত দিব কেন? আমি ভিডিও করছি।’ পাশ থেকে পরীমণির সহকারীরাও বলতে থাকেন, ‘আপনি গায়ে হাত দিয়েছেন। আপনার হাত ছিল।’
এর কিছুক্ষণ পরেই বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে যান পরীমণি। গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেই ওই সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের ওপর বারবার রাগ দেখান তিনি। পরীমণিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘কত বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়, সাহস দেখায়।’ এরপর রাগ নিয়েই পরীমণি দ্রুত গাড়িতে ওঠেন। গাড়িতে ওঠার আগেও পরীমণি এ ঘটনায় বিরক্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান। অভিযুক্ত ব্যক্তি উচ্চ স্বরে বলতে থাকেন, ‘তার গায়ে আমি দেইনি। কেন সে এ অভিযোগ করবে?’ পরে দ্রুত বের হয়ে যায় পরীমণির গাড়িটি।
২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আদালতে মামলাটি করেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন আদালত।
২০২৩ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
ওই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত দুই আসামিকে ২৫ জুন হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। নির্ধারিত দিনে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তারা।
গত বছরের ২৬ জানুয়ারি পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জুনাইদ। সেদিন আদালতে হাজির না হওয়ায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে পরদিনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
এরপর ২৭ মার্চ অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন আবেদন করেন পরীমণি। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাজ্জাদুর রহমান খান আবেদনটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মামলার বিচার কার্যক্রম চলতে আর কোনো বাধা নেই বলে আদেশ দেন তিনি।


-e7c2bf.jpg)











-a84a4b-256x144.webp)
