হত্যাচেষ্টা মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
-e7c2bf-480x270.webp)
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন। এ দিন মামলার শুনানিতে উপস্থিত না থাকায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা সুরভী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এলার্জিজনিত সমস্যার কারণে পরীমণি বুধবার আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করার আবেদন করেছিলেন তারা। তবে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তার মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
এদিকে আদালত সূত্র জানায়, এ দিন মামলার বাদী উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শুনানির সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
আদালত সূত্রে জানা যায়, পরীমণির পক্ষের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সময়ের আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত থাকলেও এলার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমণি আদালতে আসতে পারেননি। তাঁকে সময় দেওয়া না হলে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে নাসির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি করেন। এজাহারে তার অভিযোগ, পরীমণি ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে গিয়ে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি।
এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহারের পর ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাত সোয়া ১টার দিকে বাদী নাসির উদ্দিন ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব ছাড়ার সময় পরীমণি তাকে ডেকে কিছুক্ষণ বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের একটি বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে গালমন্দ করা হয়। পরে বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি তার দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় ও বুকে আঘাত পান। এ ছাড়া তাকে মারধর, হত্যার হুমকি ও ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এতে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
গত বছরের ২৬ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। অন্যদিকে, একই ঘটনায় পরীমণি বাদীসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাভার থানায় মামলা করেন। সেটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।















