রাজশাহীতে সাঁওতালদের ধর্মীয় স্থান দখলচেষ্টা, ভাঙচুরের অভিযোগ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৮: ০৫
রাজশাহীতে সাঁওতালদের ধর্মীয় স্থান দখলচেষ্টা, ভাঙচুরের অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পবিত্র স্থান মাঞ্জহি থান দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সৈয়দপুর গ্রামের ইসমাইল সরকার ও তার ভাই ইব্রাহিম সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাঁওতালরা। গতকাল মঙ্গলবার তাদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ দেওয়া হয়।

গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের মহালানপাড়া গ্রামে ৩৫টি সাঁওতাল পরিবারের বসবাস। গ্রামের বাসিন্দারা বহু বছর ধরে মাঞ্জহি থানের পাশে প্রায় চার কাঠা জমিতে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, গত সোমবার ইসমাইল সরকার ও ইব্রাহিম সরকার ট্রাক্টর দিয়ে ওই জমির বেড়া ভেঙে দখলের চেষ্টা করেন এবং ভাঙচুর চালান। ঘটনাস্থলটি মহালানপাড়া গ্রামে অবস্থিত।

মাঞ্জহি থান আদিবাসী সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর উপাসনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পবিত্র স্থান। সাধারণত গ্রামের নির্দিষ্ট জায়গায় কোনো পবিত্র গাছকে কেন্দ্র করে এটি গড়ে ওঠে। সেখানে সাঁওতালরা নিজেদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আচার পালন করেন। এটি তাঁদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, মাঞ্জহি থানটি ২৪ নম্বর দাগে অবস্থিত। এর পাশের ৫৯ নম্বর দাগে ইসমাইল সরকার ক্রয়সূত্রে চার বিঘা জমির মালিক। মাঞ্জহি থানের জমিটি আলাদা বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল। ঘটনার সময়ই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তাঁর নির্দেশে কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ইসমাইল সরকারকে জমি দখলে বাধা দেয়। পরদিন সাঁওতালদের পক্ষে সুখেন মার্ডি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

মহালানপাড়ার সাঁওতালরা জানান, জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বস্ত করেছেন, মাঞ্জহি থান কেউ দখল করতে পারবে না। এ আশ্বাসের পর বুধবার থেকে তাঁরা আবার স্থানটি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন। সকালে কাজ পরিদর্শন করেন সিসিবিভিওর নির্বাহী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল ও মানবাধিকারকর্মী আরিফ ইথার। সারওয়ার-ই-কামাল বলেন, ‘উপাসনালয় ভাঙচুর কেবল অপরাধ নয়, এটি আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের দ্রুত ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই।’ এ লড়াইয়ে আইনি সহযোগিতার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ইসমাইল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী জানান, ইসমাইল সরকার কথা বলবেন না। জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সাঁওতালরা গাছের নিচে একটি পাথর রেখে ধর্মীয় আচার পালন করেন, সেটিই তাঁদের পবিত্র স্থান। ইউএনও ও পুলিশকে বলা হয়েছে, তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন এবং কেউ জায়গাটি দখল করতে না পারে। গোদাগাড়ীর ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, মাঞ্জহি থান পুরোপুরি ভাঙেনি এবং এটি কোনো স্থাপনাও নয়। তাই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে জমি চাষ করতে যাওয়া ব্যক্তিকে এ ধরনের কাজ না করতে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad