মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ, উপকূলে ফিরছেন জেলেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৩০
মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ, উপকূলে ফিরছেন জেলেরা

আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে সমুদ্র ও নদীতে ইলিশ ধরায় শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কারণে গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর, কুয়াকাটা ও রাঙ্গাবালীসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো জেলে ইতোমধ্যে নদনদীতে ফিরে এসেছেন।

তবে মাত্র ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আবারও ২২ দিনের অবরোধে যেতে হওয়ায় জেলেদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এখনো ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। প্রজনন বাড়ানোর জন্য নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ নিয়ে হতাশা থাকলেও সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে দেশের জলসীমায় পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের মাছ ধরার অভিযোগ তুলে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। তাদের দাবি, নৌবাহিনী ও প্রশাসনের কঠোর পাহারা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের জন্য প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানো এবং তা সময়মতো বিতরণ করতে হবে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার আগে পটুয়াখালীর বিভিন্ন মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে শেষ সময়ের বেচাকেনা চলছে। মহিপুর-আলিপুর ও আশপাশের কেন্দ্রগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। জেলেদের অভিযোগ, সাগরে আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নিজাম শেখ বলেন, বেশিরভাগ জেলেই প্রায় খালি হাতে ফিরছেন। দেশি-বিদেশি ট্রলিং বোটের পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের আধিপত্য নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি।

জেলে আব্দুর রহিম বলেন, মাছের সংকটের মধ্যেই আবার নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে হলেও প্রণোদনা সময়মতো পাওয়া যায় না এবং পরিমাণও প্রয়োজনের তুলনায় কম। ট্রলারের মাঝি সোলায়মান জানান, জেলেরা এনজিও, ব্যাংক ও দাদনের ঋণে জর্জরিত। ফলে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা তাঁদের আর্থিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু গাজী বলেন, গত দুই-তিন বছর ধরে সাগরে মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সুযোগে ভারত ও মিয়ানমারের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময়ে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের নজরদারি জোরদারের দাবি জানান তিনি।

আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার সমিতির নেতা আব্দুল জলিল ঘরামি বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রতি সম্মান জানিয়ে জেলেরা মধ্যরাতের আগেই তীরে ফিরে আসছেন। অনেক ট্রলার ইতোমধ্যে বিভিন্ন আশ্রয়স্থলে নোঙর করেছে। তাঁর ভাষ্য, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলেরা ঠিকমতো সাগরে যেতে পারেননি। এরপর আবার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জেলে ও আড়তদারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, মা ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের প্রজনন মৌসুমে মৎস্যসম্পদ বাড়ানোর লক্ষ্যেই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে কলাপাড়া উপজেলার ১৮ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদেরও পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত বা বাজারজাত করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে বলেও জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement