বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে বিজয়ী দল বিএনপি। দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে রাষ্ট্র পরিচালনায় দলের অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের ওপর ভরসা না করে তরুণ এবং নতুন মুখের প্রাধান্য দিয়েছে দলটি। ফলে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন দলটির বেশ কয়েকজন সিনিয়র ও প্
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন ৪৯ জন। এ তালিকায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভেতরে ও বাইরে চলছে জোর আলোচনা। দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র—সব পর্যায়েই চলছে বিশ্লেষণ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা আশাবাদী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
সংসদ সদস্যদের শপথ শেষ। এবার নতুন সরকার গঠনের পালা। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি এরই মধ্যে সংসদীয় দলের সভায় দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এবার তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পালা। তার শপথের পর শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও।
যথাসময়ে উপস্থিত হতে না পারায় বিএনপির অন্য সংসদ সদস্যরা আগেই শপথ নিয়ে নেন। পরে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ নিয়েছেন ইশরাক।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। কারণ হিসেবে দলটি বলছে, সংবিধানে এই পরিষদের বিধান নেই। এই পরিষদের সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, সেটিও নির্ধারিত হয়নি।
জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণ করেছেন এই জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই উল্লেখ করে দলটি এ শপথ নেয়নি। এ সময় জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলী নির্বাচনি ঐক্যের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান।
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন— এই খবরে রাজধানীসহ সারা দেশে বিজয় উল্লাস করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সংসদ ভবন এলাকায় সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচিত নেতৃত্বের অধীনে দেশ পরিচালিত হওয়ার প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
এসময় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে এনসিপি সই করেছি। গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ভোট এসেছে। জুলাই জাতীয় সনদে সংস্কারের জন্য ও বাস্তবায়নে কাজ করবে। নোট অব ডিসেন্ট ব্যতি রেখে সই করেছি। সংস্কার পরিষদে জুলাই জাতীয় সনদের উল্লিখিত সংস্কারে কাজ করব।’
বিবৃতিতে তারা নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ অভিহিত করে ফলাফল বাতিল এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রথমে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যান তারেক রহমান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আগামীকাল শপথ গ্রহণ করবেন। আমরা একই সঙ্গে দুটো শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমাদের ওপর দেশের মানুষ যে আস্থা রেখেছে আমরা তা বাস্তবায়ন করব।