জাপা চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ, কাউন্সিল স্থগিতে ক্ষুব্ধ প্রেসিডিয়াম

জাতীয় পার্টির নির্ধারিত দশম জাতীয় কাউন্সিল স্থগিত করে দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগ তুলেছেন দলটির একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাঁরা দাবি করেছেন, দলীয় গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের একক সিদ্ধান্তে কাউন্সিল স্থগিত করেছেন—যা স্বেচ্ছাচারী ও একগুয়ে আচরণ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁরা বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় সম্মেলনের তারিখ ও স্থান নির্ধারণের ক্ষমতা প্রেসিডিয়ামের। সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়েছিল, চীনা মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে কাউন্সিল না হলে একই দিনে কাকরাইলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিকল্পভাবে তা আয়োজন করা হবে। কিন্তু এসব উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাউন্সিল এড়াতে একই তারিখে সমাবেশ ডাকেন।
তাঁদের অভিযোগ, গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা যেভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার অন্তরায়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চেয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি জানিয়ে এলেও সাড়া মেলেনি। বরং, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে একক কর্তৃত্ব বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
প্রেসিডিয়ামের কয়েকজন সদস্য বলেন, পুরোনো, ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতাদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ দল গঠনের প্রস্তাবও চেয়ারম্যান প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে হতাশ হয়েছেন অনেকেই।
তাঁরা মনে করেন, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সবসময় সংগঠনের ভেতরে গণতন্ত্র ও শৃঙ্খলার পক্ষে ছিলেন। তাঁর আদর্শ থেকে বর্তমান নেতৃত্ব বিচ্যুত হচ্ছে, যা দলের ভবিষ্যতের জন্য বিপদজনক।
প্রেসিডিয়ামের ওই সদস্যরা দ্রুত নতুন তারিখ ঘোষণা করে প্রেসিডিয়াম সভার মাধ্যমে সম্মেলনের আয়োজনের আহ্বান জানান। তাঁদের দাবি, জাতীয় পার্টিকে একটি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে পুনর্গঠনের এখনই সময়।

















