মানিক পশারী ইস্যুতে কাদের— এই এনসিপির মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করার নমুনা!

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘নীরবতা’র সমালোচনা করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। তিনি একই সঙ্গে দলটির মুক্তিযুদ্ধকে ‘ধারণ’ (ওউন) করার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এনসিপি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছে এবং মবকে নীরব সমর্থন দিয়েছে বলে অভিযোগ করে আব্দুল কাদের বলেছেন, “অথচ তারা নাকি মুক্তিযুদ্ধকে ওউন করেন। এই তাদের ওউন করার নমুনা!”
রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আব্দুল কাদের লেখেন, “দেশে একটা মানুষ মারা গেছে, জামাতের নেতাকর্মীরা তার লাশ দাফন করতে দিচ্ছিল না, মব করে তার জন্য খোঁড়া কবর জোরপূর্বক ভরাট করে ফেলছে। ১৭ ঘন্টা পরে তার বৃদ্ধা বোন আর মেয়ে রাতের আঁধারে মোবাইলের আলোতে প্লেট দিয়ে মাটি খুঁড়ে তাকে দাফন করেছে!”
প্রসঙ্গত, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী পিরোজপুরের সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামে থাকতেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে ছিলেন তিনি। সেখানে দুই মাস অসুস্থ থাকার পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বজনরা তার মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে এলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তারা। পরে পুলিশি সহায়তায় মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর জেলা পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশের সহায়তায় মানিক পশারীর লাশ চিতলিয়া গ্রামের বাড়ি নিয়ে যান স্বজনরা। সেখানে রাত ২টার দিকে পুলিশি পাহারায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
মানিক পশারীর দাফনে জামায়াত নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কাদের অভিযোগ করেন, “এমন অমানবিক ঘটনার পরে এনসিপি সাংগঠনিকভাবে একেবারে নির্বিকার, নির্লিপ্ত ছিল। আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি তো দূরে থাক; কোনো একজন নেতা সোশাল মিডিয়ায় পর্যন্ত একটা টু শব্দ করে নাই।”
মৃত ব্যক্তি (মানিক পশারীর) ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত’ উল্লেখ করে কাদের আরও লেখেন, “এক্ষেত্রে এনসিপি তাদের শরিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছেন। মবকে নীরব সমর্থন দিয়েছেন। অথচ তারা নাকি মুক্তিযুদ্ধকে ওউন করেন। এই তাদের ওউন করার নমুনা!”
পোস্টে এনসিপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কাদের। তিনি লেখেন, “কয়েকদিন আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজার সময়ে মন্দির প্রাঙ্গণে মন্দিরের অবশিষ্ট ইট ব্যবহার করে মাংস রান্নার ঘটনায় হ্যাডম দেখিয়ে পালটা গরু ভোজের আয়োজনের নেতৃত্বে ছিল এনসিপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব!”
“সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের আয়োজক তাহলে কারা? অথচ ছাত্র শক্তি-শিবির এবং মজলিসের এমন উষ্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের পরে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ হওয়ার ক্রেডিট নাকি বিরোধী দলের; সরকারের না,” লেখেন কাদের।
নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় এনসিপির ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন আব্দুল কাদের। তার ভাষ্য, “চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে নারীকে ফ্লাইং কিক দেওয়া থেকে শুরু করে জামায়াত নেতা গাজী নজরুলের বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়ে জীবন দেওয়া সেই অসহায় তরুণী, নিপীড়িত নির্যাতিত এমন কোনো নারীর পক্ষে এনসিপি নারী নেতৃত্ব কিংবা দলীয় নেতারা টু শব্দ করেনি, ভিক্টিমদের পাশে দাঁড়ায়নি।”
“তারা রাজনৈতিক কারণে আন্দোলন করেছিল হাতিয়ায় শাপলাকলিতে ভোট দেওয়ার জেরে ধর্ষণের মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডার ঘটনায়! অথচ তাদের নতুন বন্দোবস্তে নাকি নারীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টা অগ্রভাগে,” যোগ করেন কাদের।
আব্দুল কাদের আরও অভিযোগ করেন, “মাদ্রাসায় এতো এতো শিশু বিকৃত যৌনলালসার শিকার হচ্ছেন, এ ব্যাপারে এনসিপি নেতাদের মুখে কোনো রা নেই!”
পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, “জ্বি, এটাই হচ্ছে জামায়াত পরিচালনাধীন এনসিপির মধ্যপন্থি রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারীর অধিকার রক্ষায় অঙ্গিকারবদ্ধ এবং সর্বোপরি নতুন বন্দোবস্তের নমুনা।”
















