তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার: উদ্বেগ-ক্ষোভ জামায়াতের, ‘স্বচ্ছ তদন্ত’ দাবি
-12b6a3-480x270.webp)
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে জামায়াতের প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে বলেন, “একজন সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার লাশ নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার এভাবে নিহত হওয়ার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে দেশবাসীর মনে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।”
গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। বিমানবাহিনীর সাবেক একজন কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় এসব সংস্থার চরম ব্যর্থতা ও গাফিলতি রয়েছে।
তিনি বলেন, “যেসব গোয়েন্দা সংস্থা বিমান বাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তার জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারাই আবার বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দের নামে আজগুবি, ভুয়া ও কাল্পনিক তথ্য ছড়িয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।”
জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তাহসিফ সাউরি নিহত হওয়ার প্রকৃত কারণ, কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে। তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা সংস্থার দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “তাহসিফ সাউরির পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।” রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেও কেউ দায়মুক্তি পেতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সপরিবারে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে থাকতেন। তার বাবা এনায়েতুল করিমের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এনায়েতুল করিমের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপ নামের এক ব্যক্তি তাহসিফকে ডাকলে তিনি মাকে বলে যান, “আমি দীপের সাথে কথা বলে আসি।” এরপর আর বাসায় ফেরেননি। তার মা একাধিকবার ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে রাত একটার পর তাহসিফ মাকে মেসেজ দিয়ে লেখেন, “আম্মু আমি বাসায় আসতেছি।”
তাহসিফের বাবা বলেন, বুধবার দুপুরের দিকে তিনি তুরাগ থানায় গিয়ে ছেলের বিষয়ে খোঁজ নেন। তখন পুলিশ জানায়, তার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিকেলে দক্ষিণখান থানার পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয়, তুরাগ নদে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। এনায়েতুল করিম বলেন, “কে বা কারা হত্যা করেছে, এটা আমরা জানি না। এটা পুলিশ তদন্তে বের হবে।”


-9cb87c.jpg)











-68ed53-256x144.webp)

