‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দীপে’র ডাকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ
-9cb87c-480x270.webp)
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নিহত তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার আগে এক ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’য়ের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘দীপ’ নামে ওই ব্যক্তি তাকে ফোন করে ডেকে নেন বলে জানিয়েছেন তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম।
বুধবার বিকেলে ঢাকার উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। তার বাসা উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে।
এ দিন দুপুরে ওই ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম। তিনি জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। তবে বার্তাটি দেখে তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এনায়েতুল করিম বলেন, “এরপর থেকে আমরা আর তাকে লোকেট করতে পারিনি। গতকাল দুপুরে আমি তুরাগ থানায় গিয়েছিলাম, তখন আমাকে বলা হয়েছিল— ‘এরকম কোনো ব্যাড নিউজ নাই’।”
তিনি জানান, বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে উত্তরখান থানা থেকে ফোন করে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর দেওয়া হয়। যে এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে তাহসিফ কখনো যেতেন বলে তাদের জানা নেই।
তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম আরও জানান, বিমানবাহিনী থেকে তার ছেলেকে চাকরিচ্যুত করার কারণ হিসেবে ‘শৃঙ্খলাজনিত’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নেত্র নিউজে কাজ করেন।
সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডে চাকরি করতেন তাহসিফ। তার বাবার ভাষ্য, ছেলে ছিলেন নম্র, ভদ্র ও সামাজিক। জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।
সঙ্গে নেওয়া বাইকটির খোঁজ নেই
দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তাহসিফ। তার নিজের একটি মোটরসাইকেল ছিল। তবে মাসখানেক আগে দুর্ঘটনায় পড়ার পর পরিবার তাকে বাইক চালাতে নিষেধ করেছিল।
তাহসিফের এক স্বজনের ভাষ্য, মঙ্গলবার তিনি মোটরসাইকেল নিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেটি আর বাসার গ্যারেজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তাহসিফকে ডেকে নেওয়া দীপের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা কথা বলেছেন। ওই স্বজন জানান, দীপ তাদের বলেছেন, রাতে দুজন একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেছিলেন। পরে তাহসিফকে তার বাসার এলাকার কাছে রেখে তিনি ফিরে যান।
ওই স্বজন বলেন, “আমরা দীপের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তাহসিফের বাইকটি মিসিং। পুলিশ আমাদের কাছে বাইকের ডিটেইলস, ছবি চেয়েছে। আমরা দিয়েছি, পুলিশ এটা বলতে পারবে।”
তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ
তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি উত্তরখান থানার আওতাধীন এলাকায় ঘটেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, “তারা এখনো কোনো অভিযোগ পাননি, আর বিষয়টি দেখছে নৌ পুলিশ।”
নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে দেশত্যাগ করেন। সে সময় তার বিমানে ওঠার যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।
গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্টে তাহসিফকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণের কারণে বিমানবাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, “হতে পারে।”
ওই পডকাস্টে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গও তোলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভিডিওটির বিষয়ে বিমানবাহিনীর তদন্তে বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে তাহসিফের নামও ছিল।
জবাবে তাহসিফ বলেন, “আমার মনে হয়, ‘আমার দেশ’ যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।”
গত বছরের ৪ আগস্ট ‘আমার দেশ’-এর ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রতিবাদলিপি দেয়। এতে বলা হয়, প্রতিবেদনে (আমার দেশ) তাহসিফ সাউরিসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ‘বাস্তবে’ তাদের ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসারে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানায় আইএসপিআর।















