সিইসির পদত্যাগ দাবি: দিল্লিতে মমতা-ধ্রুবসহ আটক বামপন্থি নেতারা
-1d5c20-480x270.webp)
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ বামপন্থি নেতারা। এ ছাড়া মমতার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন সাংসদকেও আটক করা হয়েছে।
-c5c663.jpg)
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধর্নায় বসার পর দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা হয়। তার সঙ্গে আটক হওয়া সাংসদের মধ্যে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম এবং সাকেত গোখলে।
এদিকে, বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তর থেকে বদলে দিল্লি হাটের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করেছে পুলিশ। তাকে একটি পুলিশ বাসে রাখা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বাসটি ঘিরে রেখেছেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেহা জানান, যন্তর মন্তরের পরিবর্তে দিল্লি হাটে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। ২৯ বছর বয়সী নেহা দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন এআইএসএর সভাপতি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনে তিনি অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন পরিবর্তনের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি কর্মসূচির নাম দিয়েছিল ‘যন্তর মন্তর ২.০’। তবে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার ও ধরপাকড় চালানো হয়।
ধ্রুব রাঠি ও তুষার গান্ধী আটক
দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার আগে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর-৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটিতে তার বাসায় পৌঁছান দিল্লি ও গুরুগ্রাম পুলিশের সদস্যরা। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
হিন্দুস্তান টাইমসকে পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দিতে ধ্রুব রাঠিকে দিল্লি যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। পুলিশের নির্দেশনা না মানায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
এদিকে, সিজেপির কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে আটক হয়েছেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র ও ‘হাম ভারত কে লগ’ সংগঠনের সভাপতি তুষার গান্ধী।
শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ওই কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল তুষার গান্ধীর সংগঠন। সেখানে যাওয়ার পথে বান্দ্রা এলাকা থেকে তাকে আটক করে ডিএন নগর থানায় নেওয়া হয়। তার সহযোগী ও সংগঠনটির সহসভাপতিকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে কোনো আবেদন জমা পড়েনি। তাই ওই কর্মসূচির অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তবে তুষার গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আটক পিনারাই বিজয়নসহ বামপন্থি নেতারা
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। শনিবার সকালে তাকে আটকের খবর নিশ্চিত করেছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিআই-এম।
দলটি জানিয়েছে, পিনারাই বিজয়ন ছাড়াও সিপিআই-এমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, নেতা এম ভি গোবিন্দন মাস্টার, এ বিজয়রাঘবন, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল ও বৃন্দা কারাতকে আটক করেছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তাদের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারা থেকে ৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দিতে এসে তারা রাতে গুরুদুয়ারায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। শনিবার সকালে সেখান থেকে বের হয়ে কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে তাদের আটক করা হয়।
সিজেপির আইনি উপদেষ্টা আইনজীবী রত্না সিংহকেও আটক করা হয়েছে। দলের নেতা সৌরভ দাস জানিয়েছেন, আইনজীবীদের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে আরও অনেক আইনজীবীকে আটকের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন।
দুপুর ১টা পর্যন্ত আটক ৩ হাজার ৩০০
‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি ঘিরে শনিবার ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভ শুরুর আগেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং দলটির অন্য দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকে আটক করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৩ হাজার ৩০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক হয়েছেন। বিক্ষোভে যোগ দিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন জায়গায় তাদের আটকে বাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
এদিকে সিজেপি জানিয়েছে, দলের নেতাদের আটক করা হলেও তাদের ছাড়াই আন্দোলন চলবে। দলটির বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হলে গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব জনগণকেই নিতে হবে।

-a1651f.jpg)
-348f58.jpg)












-a1651f-256x144.webp)
-348f58-256x144.webp)



