দিল্লি পুলিশের হাতে আটক নেহা, বাস ঘিরে রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা
-a1651f-480x270.webp)
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহাকে একটি পুলিশ বাসে রাখা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বাসটি ঘিরে রেখেছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে নেহা জানান, বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরের পরিবর্তে দিল্লি হাটে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর মিছিল নিয়ে দিল্লি হাটের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।
২৯ বছর বয়সী নেহা বোরা দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন এআইএসএর সভাপতি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনে তিনি অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন পরিবর্তনের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বিপুল জমায়েত ও অশান্তির আশঙ্কায় শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় ব্যারিকেড। যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথগুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
বিক্ষোভের আগেই শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ বামপন্থি বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী, আইনজীবী ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীকেও আটক করা হয়। গুরুগ্রাম থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং মুম্বাই থেকে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকেও আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৩ হাজার ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক হন। বিক্ষোভে যোগ দিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করা অনেককে বিভিন্ন স্থানে আটকে বাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
এমন পরিস্থিতিতে দুপুর ১টার পর মিছিল নিয়ে বের হন নেহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ঘোষণা দেন, ‘দিল্লি হাটই আজকের যন্তর মন্তর। আমরা আসছি।’ পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি সম্প্রচার করেন তিনি। সেখানে দেখা যায়, স্লোগান দিতে দিতে এগোচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। পথে একটি ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এগিয়ে যান তারা। দিল্লি হাটে পৌঁছানোর চেষ্টা করা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেও ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে নেহাকে আটক করে একটি পুলিশ বাসে তোলা হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা বাসটি ঘিরে রাখেন।
‘যন্তর মন্তর ২.০ আসছে’: নেহা বোরা
দিল্লি পুলিশের ধরপাকড়ের সমালোচনা করে শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেহা লিখেছিলেন, ‘শুরুতে রাজধানী পুরোপুরি অচল করে দেওয়া হলো। এখন রাজধানীর ভেতরে থাকা এবং রাজধানীর পথে থাকা নাগরিকদের আটক করা হচ্ছে। পথে পথে ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে।’
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘তারা বলছে, তারা ভীত নয়। তারা বলছে, বিক্ষোভ ব্যর্থ হবে। কিন্তু সত্যটা সবার সামনে স্পষ্ট। যন্তর মন্তর ২.০ আসছে!’
এদিকে, সিজেপির নেতাদের আটকের আশঙ্কায় আগের রাতেই একটি ভিডিওবার্তা রেকর্ড করে যান অভিজিৎ দীপকে। পরে দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, তাঁকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হলে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন। ধরপাকড় দেখে বিক্ষোভকারীরা যেন ফিরে না যান, সেই আহ্বানও জানান তিনি।
শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি জানায়, অভিজিৎ দীপকে আগের রাতে সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের কথা মাথায় রেখে ভিডিওবার্তাটি ধারণ করেছিলেন। তিন নেতা আটক থাকাকালে অজিঙ্কা শিন্ডে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন।
দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নেতাদের আটক করা হলেও আন্দোলন চলবে। গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হলে গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব জনগণকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিজেপি।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য হিন্দু

-348f58.jpg)













-1d5c20-256x144.webp)
-348f58-256x144.webp)



