‘যন্তর মন্তর ২.০’ ঠেকাতে দিল্লি পুলিশের ধরপাকড়, আটক অন্তত ৩৩০০

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন পরিবর্তনের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দিল্লি জুড়ে অন্তত ৩ হাজার ৩০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। কর্মসূচি শুরুর আগেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং দলটির অন্য দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকে আটক করা হয়। বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়া কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ ভারতের বামপন্থি বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী, আইনজীবী ও অন্য বিক্ষোভকারীদেরও আটক করা হয়েছে। গুরুগ্রাম থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং মুম্বাই থেকে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকেও আটক করেছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে ৩ হাজার ৩০০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক হয়েছেন। বিক্ষোভে যোগ দিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন জায়গায় তাদের থামিয়ে বাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
এদিকে সিজেপি জানিয়েছে, দলের নেতাদের আটক করা হলেও তাদের ছাড়াই আন্দোলন চলবে। দলটির বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হলে গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব জনগণকেই নিতে হবে।
উড়োজাহাজের ভেতর থেকে আটক অভিজিৎ
যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লি পৌঁছান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শনিবার সকাল ১০টা ১৯ মিনিটের দিকে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজটি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপরই পুলিশ উড়োজাহাজের ভেতরে প্রবেশ করে অভিজিৎ, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে।
আটকের সময় অভিজিৎ ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার করেন। তার প্রকাশ করা ভিডিওতে উড়োজাহাজের ভেতরে পুলিশ ও সিজেপির সদস্যদের মধ্যে তর্কাতর্কি করতে দেখা যায়। যাত্রীদের নামার জন্য অপেক্ষা না করে পুলিশ কেন উড়োজাহাজে ঢুকে তাদের আটক করতে এসেছে, সে প্রশ্ন তোলেন দলের সদস্যরা।
ভিডিওতে অভিজিৎকে নারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা আমাদের বেরিয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতেন। আসুন, গ্রেপ্তার করুন। আমরা ভয় পাই না।’ আটক হওয়ার সময় অভিজিৎ আরও বলেন, ‘দেশে জরুরি অবস্থার সময়ে ইন্দিরা গাঁধীও এ রকম করেননি। আমরা গ্রেপ্তার হতে প্রস্তুত।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে অভিজিৎ, সৌরভ ও আশুতোষকে আলাদা আলাদা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে অভিজিৎকে গুরুগ্রাম, সৌরভকে দিল্লি এবং আশুতোষকে দ্বারকায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সিজেপির নেতারা জানিয়েছেন, তাদের আটক করে আন্দোলন থামানো যাবে না। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া কর্মসূচি নেতাদের ছাড়াই এগিয়ে নেওয়া হবে।
আটক পিনারাই বিজয়নসহ বামপন্থি নেতারা
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। শনিবার সকালে তাকে আটক করার খবর নিশ্চিত করেছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিআই-এম।
দলটি জানিয়েছে, পিনারাই বিজয়ন ছাড়াও সিপিআই-এমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, নেতা এম ভি গোবিন্দন মাস্টার, এ বিজয়রাঘবন, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল ও বৃন্দা কারাতকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়।
এ ছাড়া দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারা থেকে ৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দিতে এসে তারা রাতে গুরুদুয়ারায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। শনিবার সকালে সেখান থেকে বের হয়ে কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে তাদের আটক করা হয়।
সিজেপির আইনি উপদেষ্টা আইনজীবী রত্না সিংহকেও আটক করা হয়েছে। তিনি আইনজীবীদের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন দলের নেতা সৌরভ দাস। বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে আরও অনেক আইনজীবীকে আটক করার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন।
ধ্রুব রাঠি ও তুষার গান্ধীও আটক
দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার আগে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে পুলিশ। হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটিতে শনিবার সকালে তার বাসায় পৌঁছান দিল্লি ও গুরুগ্রাম পুলিশের সদস্যরা। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
হিন্দুস্তান টাইমসকে পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দিতে ধ্রুব রাঠিকে দিল্লি যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। পুলিশের নির্দেশনা না মানায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে সিজেপির কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে আটক হয়েছেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র ও ‘হাম ভারত কে লগ’ সংগঠনের সভাপতি তুষার গান্ধী।
শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ওই কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল তুষার গান্ধীর সংগঠন। সেখানে যাওয়ার পথে বান্দ্রা এলাকা থেকে তাকে আটক করে ডিএন নগর থানায় নেওয়া হয়। তার সহযোগী ও সংগঠনটির সহসভাপতিকেও আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, কর্মসূচি পালনের অনুমতি চেয়ে কোনো আবেদন জমা পড়েনি। তাই ওই কর্মসূচির অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তবে তুষার গান্ধীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তাকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
কেজরিওয়াল ও রাহুল গান্ধীর সমালোচনা
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেসহ দলটির নেতাদের আটকের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এখন আনুষ্ঠানিকভাবেই বলা যায়, আমরা মোদির চরম স্বৈরশাসনের মধ্যে আছি। উড়োজাহাজ থেকে নামার আগেই ককরোচদের গ্রেপ্তার করা নজিরবিহীন ভয়ের বহিঃপ্রকাশ।’
কেজরিওয়াল আরও লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্টতই জানেন, তিনি ভোট চুরি করে নির্বাচনে জিতেছেন। নিজের জালিয়াতি আড়াল করতে তিনি গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।’ একই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জ্ঞানেশকে বিদায় নিতে হবে, মোদিকেও বিদায় নিতে হবে।’
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন। শনিবার সকালে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে বিদায় নিতে হবে। এ সরকারকেও বিদায় নিতে হবে। এর পরই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে।’
অন্যদিকে, বিক্ষোভ শুরুর আগেই সরকার পরাজয় মেনে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অভিজিৎ দিপকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের বিক্ষোভ শুরুর আগেই মোদি পরাজয় মেনে নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় এবং দিল্লি অচল করে দেওয়ার পদক্ষেপ শক্তির লক্ষণ নয়; বরং এমন নেতার লক্ষণ, যিনি নিজের জনগণকেই ভয় পান।’
‘যন্তর মন্তর ২.০ আসছে’: নেহা বোরা
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি পুলিশের ধরপাকড়ের সমালোচনা করেছেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরা। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লির ভেতরে থাকা এবং রাজধানীর পথে থাকা নাগরিকদের বিনা কারণে আটক করা হচ্ছে।
২৯ বছর বয়সী নেহা বোরা দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনে তিনি অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
এক্স পোস্টে নেহা বোরা লিখেছেন, ‘শুরুতে রাজধানী পুরোপুরি অচল করে দেওয়া হলো। এখন রাজধানীর ভেতরে থাকা এবং রাজধানীর পথে থাকা নাগরিকদের আটক করা হচ্ছে। পথে পথে ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে।’
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘তারা বলছে, তারা ভীত নয়। তারা বলছে, বিক্ষোভ ব্যর্থ হবে। কিন্তু সত্যটা সবার সামনে স্পষ্ট। যন্তর মন্তর ২.০ আসছে!’
দিল্লি জুড়ে কড়া নিরাপত্তা, বন্ধ ৪৫ মেট্রো স্টেশন
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের হিসাবে, প্রায় ৭ হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানীতে আসতে পারেন। তাদের ঠেকাতে শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে দিল্লিতে অন্তত ১ হাজার মানুষকে আটক করা হয়। শনিবার সকালে আরও প্রায় ১০০ জনকে আটক করার খবর পাওয়া যায়।
দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩০০ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে বাধা দিতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় তাদের আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার রাজধানীতে প্রায় ২০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তরের চারপাশে দেড় কিলোমিটার এলাকাকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়, দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তর ও জনপথও রয়েছে। শুধু এই এলাকাতেই প্রায় ৬ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নজরদারিতে দিল্লির বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরায় ভিডিও ধারণের পাশাপাশি অডিও রেকর্ড করার সুবিধাও রয়েছে। আন্দোলনস্থল ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের শরীরেও বডিক্যামেরা রাখা হয়েছে। বিক্ষোভ ও পুলিশের পদক্ষেপের দৃশ্য ধারণ করতে আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফারদেরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া যন্তর মন্তর যাওয়ার পথে সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। কাছাকাছি থাকা ব্যারিকেডগুলো পরস্পরের সঙ্গে ঝালাই করে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন পথে স্টিলের কাঁটা বসানো হয়েছে। লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে মানুষকে বিক্ষোভে যোগ না দিতে বলা হচ্ছে। কর্মসূচিতে অংশ নিলে আটক ও আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন বলেও সতর্ক করা হচ্ছে।
পুলিশ দিল্লি ও আশপাশের এলাকার হোটেল, লজ এবং অন্যান্য আবাসনে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা কাউকে কক্ষ ভাড়া না দিতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। এয়ারবিএনবি ও ব্যক্তিগত বাড়ির মালিকদেরও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রথমে ৫৭টি স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, কোনো আন্দোলন ঠেকাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। এরপর দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন স্টেশনের সংখ্যা কমিয়ে ৪৫ করে।
শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল, এমন সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লির কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ এবং ১৬৩ ধারা জারির খবরও এসেছে।
দিল্লি পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি শহরের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই তাদের দায়িত্ব। পুলিশ যন্তর মন্তরের একটি ভিডিও প্রকাশ করে ক্যাপশনে লিখেছে, ‘তাদের জন্য, যারা শহরে শান্তি চান।’
সিইসির পদত্যাগ দাবি ও সরকারের পদক্ষেপ
সিজেপি ও কয়েকটি বামপন্থি সংগঠনের ডাকে শনিবারের এই কর্মসূচির মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। এর পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছে দলটি।
বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশি নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে। রাজধানীতে বড় জমায়েতের আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে বিক্ষোভকারীদের দিল্লিমুখী যাত্রা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এরই মধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে সংহতি জানাতে যাওয়া ব্যক্তিদের আটক, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ট্রেন চলাচল বাতিলের মতো পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিজেপির বক্তব্য, নেতাদের আটক করলেও আন্দোলন থামবে না।



















-a1651f-256x144.webp)
-348f58-256x144.webp)



