যন্তর মন্তর ২.০: বিক্ষোভস্থল বদলে দিল্লি হাটের দিকে মিছিল, নেতৃত্বে নেহা
-348f58-480x270.webp)
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভের মূল আয়োজক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের আটক করার পর এবার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরা। যন্তর মন্তরে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার কারণে বিক্ষোভস্থল পরিবর্তন করে দিল্লি হাটের দিকে মিছিল নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১টা পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৩ হাজার ৩০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, এসআইআর প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন পরিবর্তনের দাবিতে আজ শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বিপুল জমায়েত ও অশান্তির আশঙ্কায় শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বসানো হয় একাধিক ব্যারিকেড।
এ দিন সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই উড়োজাহাজের ভেতর থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ বামপন্থি বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী, আইনজীবী ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীকেও আটক করা হয়েছে। গুরুগ্রাম থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং মুম্বাই থেকে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকেও আটক করে পুলিশ।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার দুপুর ১টার পর মিছিল নিয়ে বের হন নেহা বোরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ঘোষণা দেন, ‘দিল্লি হাটই আজকের যন্তর মন্তর। আমরা আসছি।’ পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, স্লোগান দিতে দিতে এগোচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। পথে একটি ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এগিয়ে যান তারা। দিল্লি হাট এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেও ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ।
‘যন্তর মন্তর ২.০ আসছে’: নেহা বোরা
দিল্লি পুলিশের ধরপাকড়ের সমালোচনা করে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন ২৯ বছর বয়সী নেহা বোরা। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পিএইচডি শিক্ষার্থী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনে পরিচিত মুখ। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন এআইএসএর সভাপতি।
এক্সে দেওয়া পোস্টে নেহা বোরা লিখেছেন, ‘শুরুতে রাজধানী পুরোপুরি অচল করে দেওয়া হলো। এখন রাজধানীর ভেতরে থাকা এবং রাজধানীর পথে থাকা নাগরিকদের আটক করা হচ্ছে। পথে পথে ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে।’ সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘তারা বলছে, তারা ভীত নয়। তারা বলছে, বিক্ষোভ ব্যর্থ হবে। কিন্তু সত্যটা সবার সামনে স্পষ্ট। যন্তর মন্তর ২.০ আসছে!’
অন্যদিকে, আটক হওয়ার আগেই একটি ভিডিওবার্তা রেকর্ড করে যান অভিজিৎ দীপকে। পরে সিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা ওই বার্তায় তিনি বলেন, তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হলে অজিঙ্ক শিন্দে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন। ধরপাকড় দেখে বিক্ষোভকারীদের ফিরে না যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলের নেতাদের আটক করা হলেও আন্দোলন চলবে। গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হলে গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব জনগণকেই নিতে হবে বলে দলটি জানিয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার।














-a1651f-256x144.webp)




