
অরুণ কুমার

নিকটাত্মীয় হতে হলে রক্তের সম্পর্ক থাকা লাগে। কিন্তু আত্মার আত্মীয় হতে গেল রক্তের বন্ধন না থাকলেও চলে। জীবনে চলার পথে হয়তো কত আত্মীয়ের কাছে অবহেলা-বঞ্ছনার শিকার হতে হয়। আবার দেখা যায়, খুব দূরের কেউ, যার সঙ্গে রক্তের কোনো বন্ধনই নেইা, তিনি হয়তো পরমাত্মীয়ের মতো চরম দুর্দিনে দাঁড়িয়ে গেছেন। পল্লীকবি জসীমউদদীনের এমন একজন অনাত্মীয় সুহৃদ ছিলেন।
লোকটার বাড়ি বিক্রমপুরে। বর্তমানে আমরা যাকে মুন্সীগঞ্জ বলি। লোকটা আইএ পাস করার পর আর পড়াশোনা করতে পারেননি। কোনো একটা চাকরি জুটিয়ে নেবেন, এ আশা নিয়ে তিনি চলে গিয়েছিলেন কলকতায়।
সেখানেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তাই হকারি করে অর্থাৎ রাস্তায়, বাসে-ট্রামে খবরের কাগজ বিক্রি করতেন। লোকটা একদিন এক দরিদ্র ছেলের সন্ধান পান। সে-ও তার মতো পেটের দায়ে হকারিতে নেমেছে।
ছেলেটা বড্ড আনাড়ি। পত্রিকা কিভাবে বেচতে হয় তাও জানে না। সুতরাং দিনশেষে তার পত্রিকা অবিক্রীত থাকে। ছেলেটার দুঃখ দেখে মায়া হয় কার্তিকদার।
ছেলেটার সঙ্গে আলাপ করেন। ছেলেটা বড্ড দুঃখী, থাকে এক গরিব বোনের বাসায়। কিন্তু তাদের একটিমাত্র ঘর। স্বামী-স্ত্রী আর কয়েকজন ছেলেমেয়ে―তাদের সঙ্গেই ঠাসাঠাসি করে থাকে ছেলেটা। অভাবের তাড়নায় পত্রিকা বিক্রিতে নেমেছে।
কিন্তু এ কাজে বড্ড আনাড়ি।
কার্তিকদা ছেলেটার অবিক্রীত কাগজ বিক্রি করে দেন প্রায় প্রতিদিনই। ছেলেটার দুঃখের কথা, থাকার অসুবিধার কথা শুনে তাকে সঙ্গে করে নিজের মেসে নিয়ে তোলেন। কার্তিকদা একটা ভাঙা দালানের দোতলায় থাকতেন। সামনে বারান্দার মতো খোলা ছাদ। শুধু কার্তিদা নয়, সেই ঘরে তাদের মতো আরো কয়েকজন ছেলে থাকত। সবাই হতদরিদ্র।
ছোট্ট ছেলেটা কবিতা লেখে। কার্তিকদা সেই কবিতা পড়ে সবাইকে শোনায়, রাতে ঘুমানোর আগে। ছেলেটার পত্রিকা যদি খুব কম বিক্রি হয়, কার্তিকদাও সেগুলোর ব্যবস্থা হয়তো করতে পারেন না, সেদিন কার্তিদাই ছেলেটার খাওয়াদাওয়ার ভার নেন।
সেই ছেলেটা হলেন পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যের পল্লীকবি জসীমউদদীন। সেদিন কার্তিকদার মতো একজন অনাত্মীয় বড় ভাইকে পেয়েছিলেন বলেই জসীমউদদীন কলকাতা শহরে টিকে থাকতে পেরেছিলেন, হয়েছিলেন দেশবরেণ্য কবি!
সূত্র : স্মৃতিকথা সমগ্র/জসীমউদদীন

নিকটাত্মীয় হতে হলে রক্তের সম্পর্ক থাকা লাগে। কিন্তু আত্মার আত্মীয় হতে গেল রক্তের বন্ধন না থাকলেও চলে। জীবনে চলার পথে হয়তো কত আত্মীয়ের কাছে অবহেলা-বঞ্ছনার শিকার হতে হয়। আবার দেখা যায়, খুব দূরের কেউ, যার সঙ্গে রক্তের কোনো বন্ধনই নেইা, তিনি হয়তো পরমাত্মীয়ের মতো চরম দুর্দিনে দাঁড়িয়ে গেছেন। পল্লীকবি জসীমউদদীনের এমন একজন অনাত্মীয় সুহৃদ ছিলেন।
লোকটার বাড়ি বিক্রমপুরে। বর্তমানে আমরা যাকে মুন্সীগঞ্জ বলি। লোকটা আইএ পাস করার পর আর পড়াশোনা করতে পারেননি। কোনো একটা চাকরি জুটিয়ে নেবেন, এ আশা নিয়ে তিনি চলে গিয়েছিলেন কলকতায়।
সেখানেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তাই হকারি করে অর্থাৎ রাস্তায়, বাসে-ট্রামে খবরের কাগজ বিক্রি করতেন। লোকটা একদিন এক দরিদ্র ছেলের সন্ধান পান। সে-ও তার মতো পেটের দায়ে হকারিতে নেমেছে।
ছেলেটা বড্ড আনাড়ি। পত্রিকা কিভাবে বেচতে হয় তাও জানে না। সুতরাং দিনশেষে তার পত্রিকা অবিক্রীত থাকে। ছেলেটার দুঃখ দেখে মায়া হয় কার্তিকদার।
ছেলেটার সঙ্গে আলাপ করেন। ছেলেটা বড্ড দুঃখী, থাকে এক গরিব বোনের বাসায়। কিন্তু তাদের একটিমাত্র ঘর। স্বামী-স্ত্রী আর কয়েকজন ছেলেমেয়ে―তাদের সঙ্গেই ঠাসাঠাসি করে থাকে ছেলেটা। অভাবের তাড়নায় পত্রিকা বিক্রিতে নেমেছে।
কিন্তু এ কাজে বড্ড আনাড়ি।
কার্তিকদা ছেলেটার অবিক্রীত কাগজ বিক্রি করে দেন প্রায় প্রতিদিনই। ছেলেটার দুঃখের কথা, থাকার অসুবিধার কথা শুনে তাকে সঙ্গে করে নিজের মেসে নিয়ে তোলেন। কার্তিকদা একটা ভাঙা দালানের দোতলায় থাকতেন। সামনে বারান্দার মতো খোলা ছাদ। শুধু কার্তিদা নয়, সেই ঘরে তাদের মতো আরো কয়েকজন ছেলে থাকত। সবাই হতদরিদ্র।
ছোট্ট ছেলেটা কবিতা লেখে। কার্তিকদা সেই কবিতা পড়ে সবাইকে শোনায়, রাতে ঘুমানোর আগে। ছেলেটার পত্রিকা যদি খুব কম বিক্রি হয়, কার্তিকদাও সেগুলোর ব্যবস্থা হয়তো করতে পারেন না, সেদিন কার্তিদাই ছেলেটার খাওয়াদাওয়ার ভার নেন।
সেই ছেলেটা হলেন পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যের পল্লীকবি জসীমউদদীন। সেদিন কার্তিকদার মতো একজন অনাত্মীয় বড় ভাইকে পেয়েছিলেন বলেই জসীমউদদীন কলকাতা শহরে টিকে থাকতে পেরেছিলেন, হয়েছিলেন দেশবরেণ্য কবি!
সূত্র : স্মৃতিকথা সমগ্র/জসীমউদদীন

‘এমন যদি হতো/ ইচ্ছে হলে আমি হতাম/ প্রজাপতির মতো...’ পঙ্ক্তির এমন যদি হতো কিংবা ‘ধন্য সবাই ধন্য/ অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করে/ মাতৃভূমির জন্য...’ পঙ্ক্তির মুক্তিসেনার মতো কালজয়ী সব ছড়া রচনা করে সুকুমার বড়ুয়া পেয়েছিলেন ‘ছড়াসম্রাট’ খ্যাতি।
১০ দিন আগে
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কিছু সংবাদ মাধ্যম এবং বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে উক্ত বিষয়টি ‘অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা’ করা হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশ করে, বিষয়টি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
২৩ দিন আগে
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটির মুক্তির তারিখ এর আগে তিন দফা পরিবর্তন করা হয়। সবশেষ নির্ধারিত তারিখ ছিল আগামী ২৫ ডিসেম্বর।
২৩ দিন আগে
১৬ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন প্রমাণিত হয়েছিল— একটি নিরস্ত্র জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, তখন পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি বা আধুনিক সমরাস্ত্র তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। মার্কিন সপ্তম নৌ বহর বঙ্গোপসাগরের নীল জলেই থমকে দাঁড়িয়েছিল। আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব কূটচাল ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল বাঙা
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫