
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

একুশে পদক পাওয়া কবি ও ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মেনেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
‘এমন যদি হতো/ ইচ্ছে হলে আমি হতাম/ প্রজাপতির মতো...’ পঙ্ক্তির এমন যদি হতো কিংবা ‘ধন্য সবাই ধন্য/ অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করে/ মাতৃভূমির জন্য...’ পঙ্ক্তির মুক্তিসেনার মতো কালজয়ী সব ছড়া রচনা করে সুকুমার বড়ুয়া পেয়েছিলেন ‘ছড়াসম্রাট’ খ্যাতি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের রাউজানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই খ্যাতিমান ছড়াকার।
স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন সুকুমার বড়ুয়া। তার বাড়ি রাউজানের বিনাজুরী গ্রামে। তার একমাত্র ছেলে জার্মানিপ্রবাসী। প্রয়াণের পর তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে রাখা হয়েছে। ছেলে সিদ্ধান্ত দিলে মরদেহ সৎকার করা হবে।
সুকুমার বড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে তাকে চট্টগ্রাম শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে বাড়িতেও নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আবার তিনি অসুস্থ হয়ে গেলে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে রাউজান উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া সুকুমার বড়ুয়া পড়ালেখায় প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর সুযোগ পাননি। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সময় মেসে কাজ করেছেন। একটা সময় ফলমূল, আইসক্রিম, বুট বাদাম ইত্যাদি ফেরি করে বিক্রি করেছেন।
১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ৬৪ টাকা বেতনের চাকরি হয় তার। ১৯৭৪ সালে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৯৯ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোরকিপার হিসেবে অবসর নেন।
সুকুমার বড়ুয়া ছিলেন স্বভাবকবি। জীবিকার সঙ্গে সংগ্রাম করতে হলেও কবিতা ও ছড়া রচনা কখনো থামাননি। ১৯৭০ সালে ‘পাগলা ঘোড়া’ নামে তার প্রথম বই প্রকাশিত হয় বাংলা একাডেমি থেকে। এরপর একে একে ১৮টি বই প্রকাশিত হয় তার।
সুকুমার বড়ুয়ার বইয়ের মধ্যে রয়েছে ভিজে বেড়াল (১৯৭৬, মুক্তধারা), চন্দনা রঞ্জনার ছড়া (১৯৭৯, মুক্তধারা), এলোপাতাড়ি (১৯৮০, বাংলা একাডেমি), নানা রঙের দিন (১৯৮১, শিশু একাডেমী), নদীর খেলা (১৯৯৯, শিশু একাডেমী)। ১৯৯১ সালে তার ১০১টি ছড়া নিয়ে সংকলন প্রকাশ করে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। ২০০৩ সালে সাহিত্যিকা প্রকাশনী বের করে তার ছড়া সমগ্র।
কেবল শিশুতোষ ছড়া নয়; অসংগতি, অন্যায়, বৈষম্যের বিরুদ্ধেও সুকুমার বড়ুয়ার ছড়া ছিল সদা সোচ্চার। তিনি লিখেছিলেন, ‘চিচিং ফাঁক হে চিচিং ফাঁক।/ বনময়ুরের পুচ্ছ পরে,/ নাচছিল সব শকুন-কাক/ দমকা ঝড়ে হঠাৎ করে/ ঘটিয়ে দিলো ঘোর বিপাক,/ চিচিং ফাঁক হে চিচিং ফাঁক।’ ষাটের দশকে তার লেখা ছড়া ‘বুদ্ধিজীবীর বুদ্ধি গায়েব মানীলোকের মান,/ সত্যবাদীর জিহ্বা গায়েব নির্বিবাদীর কান...’ যেন এখনো প্রাসঙ্গিক।
২০১১ সালে সুকুমার বড়ুয়াকে নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘অনোমা: ছড়াসাহিত্যিক সুকুমার বড়ুয়া সম্মাননাগ্রন্থ’। অনোমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উদ্যোগে চট্টগ্রামে এ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘অসঙ্গতি, অন্যায়, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুকুমার বড়ুয়ার ছড়া সদা সোচ্চার। জীবনের যে তিক্ততা, রুক্ষতা তিনি দেখেছেন, তারই প্রতিফলন দেখি তার ছড়ায়। আমাদের কামনা থাকবে তার ছড়ায় যেন বার্ধক্য ভর না করে, আমৃত্যু যেন কলম সচল থাকে।’
সাহিত্যচর্চা ও শিশু সাহিত্যে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নানা পুরস্কার-সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন সুকুমার বড়ুয়া। বাংলা একাডেমি পদক পেয়েছেন, পেয়েছেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য সম্মাননা, আলাওল শিশুসাহিত্য পুরস্কার। ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার।

একুশে পদক পাওয়া কবি ও ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মেনেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
‘এমন যদি হতো/ ইচ্ছে হলে আমি হতাম/ প্রজাপতির মতো...’ পঙ্ক্তির এমন যদি হতো কিংবা ‘ধন্য সবাই ধন্য/ অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করে/ মাতৃভূমির জন্য...’ পঙ্ক্তির মুক্তিসেনার মতো কালজয়ী সব ছড়া রচনা করে সুকুমার বড়ুয়া পেয়েছিলেন ‘ছড়াসম্রাট’ খ্যাতি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের রাউজানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই খ্যাতিমান ছড়াকার।
স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন সুকুমার বড়ুয়া। তার বাড়ি রাউজানের বিনাজুরী গ্রামে। তার একমাত্র ছেলে জার্মানিপ্রবাসী। প্রয়াণের পর তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে রাখা হয়েছে। ছেলে সিদ্ধান্ত দিলে মরদেহ সৎকার করা হবে।
সুকুমার বড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে তাকে চট্টগ্রাম শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে বাড়িতেও নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আবার তিনি অসুস্থ হয়ে গেলে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে রাউজান উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া সুকুমার বড়ুয়া পড়ালেখায় প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর সুযোগ পাননি। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সময় মেসে কাজ করেছেন। একটা সময় ফলমূল, আইসক্রিম, বুট বাদাম ইত্যাদি ফেরি করে বিক্রি করেছেন।
১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ৬৪ টাকা বেতনের চাকরি হয় তার। ১৯৭৪ সালে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৯৯ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোরকিপার হিসেবে অবসর নেন।
সুকুমার বড়ুয়া ছিলেন স্বভাবকবি। জীবিকার সঙ্গে সংগ্রাম করতে হলেও কবিতা ও ছড়া রচনা কখনো থামাননি। ১৯৭০ সালে ‘পাগলা ঘোড়া’ নামে তার প্রথম বই প্রকাশিত হয় বাংলা একাডেমি থেকে। এরপর একে একে ১৮টি বই প্রকাশিত হয় তার।
সুকুমার বড়ুয়ার বইয়ের মধ্যে রয়েছে ভিজে বেড়াল (১৯৭৬, মুক্তধারা), চন্দনা রঞ্জনার ছড়া (১৯৭৯, মুক্তধারা), এলোপাতাড়ি (১৯৮০, বাংলা একাডেমি), নানা রঙের দিন (১৯৮১, শিশু একাডেমী), নদীর খেলা (১৯৯৯, শিশু একাডেমী)। ১৯৯১ সালে তার ১০১টি ছড়া নিয়ে সংকলন প্রকাশ করে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। ২০০৩ সালে সাহিত্যিকা প্রকাশনী বের করে তার ছড়া সমগ্র।
কেবল শিশুতোষ ছড়া নয়; অসংগতি, অন্যায়, বৈষম্যের বিরুদ্ধেও সুকুমার বড়ুয়ার ছড়া ছিল সদা সোচ্চার। তিনি লিখেছিলেন, ‘চিচিং ফাঁক হে চিচিং ফাঁক।/ বনময়ুরের পুচ্ছ পরে,/ নাচছিল সব শকুন-কাক/ দমকা ঝড়ে হঠাৎ করে/ ঘটিয়ে দিলো ঘোর বিপাক,/ চিচিং ফাঁক হে চিচিং ফাঁক।’ ষাটের দশকে তার লেখা ছড়া ‘বুদ্ধিজীবীর বুদ্ধি গায়েব মানীলোকের মান,/ সত্যবাদীর জিহ্বা গায়েব নির্বিবাদীর কান...’ যেন এখনো প্রাসঙ্গিক।
২০১১ সালে সুকুমার বড়ুয়াকে নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘অনোমা: ছড়াসাহিত্যিক সুকুমার বড়ুয়া সম্মাননাগ্রন্থ’। অনোমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উদ্যোগে চট্টগ্রামে এ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘অসঙ্গতি, অন্যায়, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুকুমার বড়ুয়ার ছড়া সদা সোচ্চার। জীবনের যে তিক্ততা, রুক্ষতা তিনি দেখেছেন, তারই প্রতিফলন দেখি তার ছড়ায়। আমাদের কামনা থাকবে তার ছড়ায় যেন বার্ধক্য ভর না করে, আমৃত্যু যেন কলম সচল থাকে।’
সাহিত্যচর্চা ও শিশু সাহিত্যে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নানা পুরস্কার-সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন সুকুমার বড়ুয়া। বাংলা একাডেমি পদক পেয়েছেন, পেয়েছেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য সম্মাননা, আলাওল শিশুসাহিত্য পুরস্কার। ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার।

হাজার ৪০৮ শিশুর শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। বুধবার (২০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলের একটি কক্ষে অনাবাসিক দুই শিক্ষার্থীকে ‘অবৈধভাবে’ রাখাকে কেন্দ্র করে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আতাউল্যাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।
৬ ঘণ্টা আগে
দেশে গত বছর দীর্ঘ সময় ধরে হামের রুটিন টিকার সংকট ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। ২০২৪ সাল থেকেই তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকা সংকট নিয়ে অন্তত ১০ বার বৈঠকে এবং পাঁচ থেকে ছয়টি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে অবহিত করলেও পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত না কর
৭ ঘণ্টা আগে
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
৮ ঘণ্টা আগে