সাহিত্য

ডিয়াগো আলভারেজ, খনিতত্ত্ববিদ ও চাঁদের পাহাড়

অরুণ কুমার
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০০: ৩৭
আলভারেজ ও শঙ্কর
আলভারেজ ও শঙ্কর

জীবন উপন্যাসের মতো নাকি উপন্যাস জীবনের মতো? গভীর ভাবে ভাবলে দুটি কথাই ঠিক। তবে জীবন বা ব্যক্তি ছাড়া উপন্যাস হয় না। কালজয়ী উপন্যাসগুলোর পেছনে তাই একজন করে সত্যিকারের ব্যক্তি থাকেন যিনি হয়তো উপন্যঅসের জীবনদাতা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হয় লেখকের ব্যক্তি জীবনকে ঘিরেই।

কখনো কখনো লেখকের জীবনের তীব্র বাসানা, যা তিনি হতে পারেননি, তা-ই ফুটিয়ে তোলেন প্রধার চরিত্রের কাঠামোতে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী কিশোর উপন্যান ‘চাঁদের পাহাড়’। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র শঙ্কর হলো বিভূতিভূষণের অপূর্ণ সাধেরই প্রতিভূ। কিন্তু পার্শ্ব চরিত্র, যাঁকে ছাড়া চাঁদের পাহাড় কল্পনায় করা যায় না, সেই ডিয়াগো আলাভারেজের চরিত্রটা বিভূতি কোথায় পেলেন?

বিভূতিভূষণের অভিযাত্রিক নামের একটা স্মৃতিকথার বই আছে। এই বইয়ের বড় অংশজুড়ে রয়েছে তাঁর পূর্ববঙ্গ ভ্রমণের কথা। চট্টগ্রামের পাহাড়-জঙ্গল দেখে বিভূতিভূষণ গিয়েছিলেন ত্রিপুরায়। সেখানে তিনি সেকালের ত্রিপুরা রাজার অতিথিশালায় আশ্রয় নেন। সেখানেই পরিচয় হয় ভবঘুরে কিন্তু অসাধরণ পণ্ডিত এক লোকের সঙ্গে। কথায় কথায় লোকটা জার্মান কবি গ্যেটের কবিতার লাইন আউড়াতেন।

বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য—সব বিষয়ে তাঁর টনটনে জ্ঞান। লোকটা স্বপ্নবাজ, কিন্তু লোভী নন। ভূতত্ত্ববিদ ও খনিবিশারদ। তিনি ত্রিপুরার পাহাড়-জঙ্গলে তেল-গ্যাস খনির সন্ধান করছিলেন, অথচ পকেটে ফুটো পয়সাটিও ছিল না। লোকটা বিভূতিকে তাঁর সঙ্গে খনির সন্ধানে বেরিয়ে পড়ার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু তাঁর নাম অভিযাত্রিক-এ লেখেন না বিভূতিভূষণ।

লোকটাকে বড্ড পছন্দ করে ফেলেছিলেন ভূমিতে। বলেছিলেন তাঁর বেশ কিছু উপন্যাসের চরিত্র তৈরিতে লোকটার একটা ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে দিকে ডিয়াগো আলভারেজও ভবঘুরে টাইপের, ভূতত্ত্বে গভীর জ্ঞান, তিনিও শঙ্করকে নিয়ে হীরার খনির খোঁজে যেতে চেয়েছিলেন। বুনিপের হাতে নিহত হওয়ার পর শঙ্কর তাঁর কাগজপত্র ঘেঁটে জানতে পারেন আলভারেজের খনিবিদ্যায় ডিপ্লোমা ছিল। সুতরাং গবেষকদের দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad