পদ্মা সেতুতে একদিনেই টোল আদায় পৌনে ৫ কোটি টাকা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ভোগান্তি ও যানজট ছাড়াই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। সমন্বিত ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে এবার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মাসেতু এলাকায় দেখা গেছে সম্পূর্ণ চিরচেনা রূপের উল্টো চিত্র। নির্বিঘ্ন এই ঈদযাত্রার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে রেকর্ড ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা। সেতু কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ তৎপরতায় প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১০টি গাড়ি টোল প্লাজা পার হতে পারায় এবার কোথাও কোনো দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়নি।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু এলাকায় এবার দেখা গেছে স্বস্তিদায়ক চিত্র। চিরচেনা যানজট ও দীর্ঘ ভোগান্তির পরিবর্তে যাত্রা হয়ে উঠেছে অনেকটাই নির্বিঘ্ন ও আনন্দদায়ক। কোথাও বড় ধরনের যানজট ছাড়াই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সহজেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।

পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এখান থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন। এ প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সবমিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। মোট টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ জানান, এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাওয়া টোল প্লাজার সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ৪৫ দিনের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১০টি গাড়ি টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে। মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি পৃথক লেনসহ মোট ১০টি লেনে টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন যানজট নিরসনে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ ‘বাস বে’। এখানে একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫টি বাস দাঁড়াতে পারায় টোল প্লাজার প্রবেশমুখে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না। এদিকে এক্সপ্রেসওয়েতে পুলিশের নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

সকাল থেকেই এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানের চাপ থাকলেও কোথাও গাড়ি থেমে থাকতে দেখা যায়নি। যাত্রীরা জানান, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে এবার পদ্মা সেতু পার হতে তাদের কোনও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। বিশেষ করে টোল প্লাজায় দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেতু কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত তৎপরতা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে এবারের ঈদযাত্রা দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনীতি/এসআর

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement