বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাতের আঁধারে দাফনের ঘটনা মর্মান্তিক: ঢাবি নীল দল

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া এবং শিল্পী সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের বিরোধিতার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল। আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে এই সংগঠনটির মতে, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে রাতের অন্ধকারে দাফন করার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অপমানজনক।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়।
মানিক পশারী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ছিলেন। এ কারণে গত শনিবার পিরোজপুরে তার মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানে এবং দাফনে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা।
পরে জেলা পুলিশের সহায়তায় মরদেহ পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিরাপত্তায় রাখা হয় মরদেহ। তবে স্থানীয় কিছু লোক পিরোজপুরে দাফন না করার দাবি তোলেন। পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশের সহায়তায় স্বজনরা মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রাত ২টার দিকে পুলিশি পাহারায় দাফন সম্পন্ন হয়।
এ নিয়ে নীল দলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাতের অন্ধকারে দাফন করার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক, অপমানজনক ও নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ। ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রকাশ্যে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষেরা ক্ষুব্ধ ও অপমানিত হয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নীল দল। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বলছে, একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের নারীদের দিয়ে কবর খোঁড়ানোর ঘটনা মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টার প্রতিফলন।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল গানসহ সাংস্কৃতিক আয়োজনে হামলা ও বাধার প্রতিবাদে গত ২৬ অক্টোবর ধানমন্ডিতে ‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’ ব্যানারে মানববন্ধন করেন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। সেখানে পুলিশ বাধা দেয় এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক করা হয়।
এ ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নীল দলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং স্লোগানটিকে ‘নষ্ট স্লোগান’ বলা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত, পুনর্লিখন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশবিরোধী শক্তি পরিকল্পিতভাবে নানা অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে দেশীয় ও লোকজ সংস্কৃতির ওপর আঘাত, জাতীয় সংগীতের রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালিমা লেপন, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন ধ্বংসের ঘটনাগুলোকেও একই তৎপরতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
নীল দলের ভাষ্য, ‘জয় বাংলা’ শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি, বাঙালির গৌরবময় আত্মপরিচয়ের প্রকাশ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ধ্বনি। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
















-733cd3-256x144.webp)