হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পাননি ৫ চিকিৎসককে, ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
-733cd3-480x270.webp)
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসককে পাননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, চিকিৎসাসেবা, হাসপাতালের পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবনগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে পরিদর্শনের সময় ১২ জন অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন অন্যত্র সংযুক্তিতে কর্মরত এবং বাকি পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে আসছেন না।
-1b88b3.jpg)
পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, পাঁচজন চিকিৎসক অনুপস্থিত। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আগামী ১ নভেম্বর নতুন ৪৪৮ জন চিকিৎসকের যোগদানের কথা উল্লেখ করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাঁদের মধ্য থেকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক দেওয়া হবে। তবে এ হাসপাতালে কতজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।
১৫১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এলাকার কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের সুবিধা দিতে এখানে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘মহিলাদের ওপর আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রসূতিদের জন্য ২০টি শয্যা থাকবে। নবজাতক শিশুদের জন্যও ২০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। এখানে নারী ও পুরুষের জন্য ফিজিওথেরাপি এবং ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার থাকবে।’
প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়া আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় ভালো মনে হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের ভেতরে বর্জ্য ফেলার স্থানটি খুবই নোংরা। হাসপাতালের কর্মীরা তাঁকে জানিয়েছেন, বর্জ্য ফেলার জন্য উপজেলায় উপযুক্ত জমি নেই। পৌরসভাও সেখানে বর্জ্য ফেলতে নিষেধ করেছে। এ সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অ্যাম্বুলেন্সের সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।















